
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে নিরাপদ যাতায়াতের অন্যতম ভরসা একমাত্র সি-ট্রাক। তবে এই একটিমাত্র নৌযানের ওপর পুরো উপজেলার মানুষের নির্ভরশীলতা যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
৩০ জুন (মঙ্গলবার) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে মহেশখালীগামী এসটি জব্বার সি-ট্রাকের সুকানের হাইড্রোলিক সিল বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত রাতের ট্রিপ বাতিল হয় এবং ঘাটে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক যাত্রী মহেশখালী যেতে পারেননি।
হঠাৎ ট্রিপ বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ফিরে গেলেও অসংখ্য নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রী দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করে চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম তাৎক্ষণিকভাবে বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনকে বিকল্প হিসেবে গাম বোট ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। পরে জরুরি ভিত্তিতে যাত্রী পারাপারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য ১ জুলাই সি-ট্রাকের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মেরামত শেষে পুনরায় নৌযানটি চালু করা হবে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে মাত্র একটি সি-ট্রাক দিয়ে প্রতিদিনের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একমাত্র নৌযানটি বিকল হলেই পুরো নৌ যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ছোট নৌযানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সি-ট্রাকই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ভরসা।
তাই যাত্রীদের দাবি, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে দ্রুত আরও একটি সি-ট্রাক সংযোজনের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্যের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রীদের এ ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।