
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সরকারি মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি স্থানীয় কিছু মাদক কারবারী ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে চিকিৎসা সরঞ্জাম, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ, ফ্রিজ, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফ্যান, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মাদক কারবারী চিকিৎসাসেবা দিতে আসা কর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে থাকে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চুরির ঘটনা বারবার ঘটছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজা ভাঙা, জানালার গ্রিল কাটা এবং বৈদ্যুতিক মিটার, তার, লাইট, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উধাও। ডেলিভারি কক্ষের চিকিৎসা সরঞ্জামও লুট করা হয়েছে। ভবনের কয়েকটি কক্ষে মাদকসেবনের জন্য ব্যবহৃত বালিশ-তোষক, সিগারেটের অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এবং নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৪টি ফ্যান, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার, একটি জেনারেটর, দুটি বড় ফ্রিজ, একটি আইপিএস, দুটি সোলার ব্যাটারি, কয়েকটি বড় সৌর প্যানেল, একটি বেবি ওয়েট মেশিন, একটি ওজন মাপার মেশিন, পাঁচটি বেডসাইড লকার, একটি মোটর, একটি স্যালাইন স্ট্যান্ড, একটি স্প্রে মেশিন, ছয়টি চেয়ার, একটি বড় টেবিলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরকারি সরঞ্জাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বারবার মূল্যবান মালামাল চুরি হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে চুরি হওয়া মালামালের কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।