
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সরকারি তামার তার অনুমতি ছাড়া উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির লাইনম্যান মো. হারুন আলীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির নিচে থাকা মূল্যবান তামার তার শ্রমিক দিয়ে খনন করে উত্তোলনের পর বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে মহেশখালী বিটিসিএল কার্যালয়ের সামনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কে সরেজমিনে গিয়ে মাটির নিচ থেকে তার উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লাইনম্যান হারুন আলী শ্রমিক নিয়োগ করে মাটি খননের মাধ্যমে তামার তার সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, গত বুধবারও প্রায় অর্ধলাখ টাকা মূল্যের তামার তার বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল সড়কের মাটির নিচে থাকা তারও শ্রমিক দিয়ে উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে লাইনম্যান মো. হারুন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিটিসিএলের কক্সবাজার জেলার সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) এ কে এম রঞ্জুকে অবহিত করে তার বিক্রির কথা জানান। একই সঙ্গে অফিসের তালা ভেঙে তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে বিটিসিএলের তার উত্তোলনের জন্য ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে শ্রমিক নিয়োগের কথাও জানান হারুন আলী।
এদিকে, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, লাইনম্যানের ফোনের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য থানাকে বলা হয়েছে।
বিটিসিএলের কক্সবাজার জেলার সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) এ কে এম রঞ্জু মুঠোফোনে বলেন, হারুন আলী তাঁকে তার চুরির ঘটনা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় হারুন আলী নিজে সম্পৃক্ত থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বিটিসিএলের যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সরকারি তার উত্তোলন ও বিক্রির অনুমোদন ছিল কি না, বিক্রির পরিমাণ কত এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।