
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর ৮টি ইউনিয়নে চলমান "অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি 'প্লাস' অর্থ বছর ২০২৫-২৬ইং" সরকারি মাটি কাটা কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে প্রকৃত শ্রমিকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় অনুসারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে শ্রমিক তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও কর্মপ্রত্যাশী শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত "অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি 'প্লাস' অর্থ বছর ২০২৫-২৬ইং" এ কর্মসূচির শ্রমিক তালিকা দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছে। একাধিকবার তালিকা চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) পক্ষ থেকে তা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেও তালিকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিক নির্বাচন করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক ক্ষেত্রে মাঠে কাজ না করেও কিছু ব্যক্তির নামে হাজিরা তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকৃত শ্রমিকদের নাম তালিকায় না থাকায় তারা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি ও মাঝির মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি অর্থের বিনিময়ে অনেকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থ দিতে না পারায় প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকরা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রমিক তালিকা প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বদলী জনিত কারণে তা দিবে বলে পরে দেয়নি। নতুন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা শ্রমিক তালিকা প্রকাশ, প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।