
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
দেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুলাই(বুধবার) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দুষ্কৃতকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান শেষে জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, কোস্ট গার্ডের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীদের মূল আস্তানাগুলোতে এখনো দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় তারা এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, পাহাড়ি অঞ্চলেও দ্রুত ও কঠোর অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক বলেন,
“দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান - অভিযানের সময় অস্ত্রসহ রফিকুল আলম ভুট্টু ও নুরুল হুদা নামে দুইজন সন্ত্রাসীকে আটক করেছিলেন যৌথ বাহিনীর দল! সন্দেহভাজন দেখিয়ে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেখা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। অথচ, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় পূর্বে থেকেই মামলা রয়েছে—এমন তথ্যও উঠে এসেছে। এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায় কিনা?