
বেবি চক্রবর্ত্তী :- মুর্শিদাবাদের সন্তান কবি-সাহিত্যিক শঙ্খ শুভ্র চট্টোপাধ্যায় সুনিতের নতুন গল্পগ্রন্থ “অতৃপ্ত অশরীরের ক্রন্দন” সম্প্রতি তরু পত্র প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এই লেখক ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজন, সংকলন ও সাহিত্যসভায় তিনি ইতিমধ্যেই নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন।
গল্পগ্রন্থটিতে অলৌকিক ও ভৌতিক কাহিনির আবহের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের দার্শনিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। হঠাৎ মৃত্যুর যন্ত্রণা, অসমাপ্ত দায়িত্বের ভার, অতৃপ্ত আত্মার মুক্তির আকুতি—সবকিছু মিলিয়ে বইটি শুধুমাত্র ভয়ের আবহ নয়, বরং জীবনের গভীর বোধ জাগাতে সক্ষম।
তরু পত্র প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে লেখক এমন কিছু গল্পমালা সংকলন করেছেন, যা নিছক কল্পনার জগৎ নয়, বরং বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া নানা অলৌকিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলনও বটে।
লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, বইয়ের প্রতিটি কাহিনী একদিকে যেমন ভৌতিক আবহের স্রোতে পাঠককে টেনে নিয়ে যায়, অন্যদিকে তেমনই মানবজীবনের যন্ত্রণা, হঠাৎ মৃত্যু, পরিবার-পরিজনের প্রতি অসমাপ্ত দায়িত্ববোধ এবং আত্মার মুক্তির আকাঙ্ক্ষার মতো গভীর দার্শনিক প্রশ্নও উত্থাপন করে।
শৈল্পিক দিক থেকেও লেখক যথেষ্ট যত্নশীল। ভাবব্যঞ্জনা ও কল্পনার দক্ষ ব্যবহার প্রতিটি গল্পকে করেছে আকর্ষণীয়, পাঠকের কাছে করেছে উপভোগ্য। বাস্তব জীবনে বহু পরিচিত মানুষের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে রচিত এই ভৌতিক কাহিনীগুলি নিছক ভয় নয়, বরং জীবনের অনিশ্চয়তা ও কর্মফলের দর্শনকেও পাঠকের সামনে মেলে ধরে।
অতএব বলা যায়, “অতৃপ্ত অশরীরের ক্রন্দন” কেবল ভৌতিক গল্পের সংকলন নয়, এটি একাধারে ভয়ের, রহস্যের এবং দর্শনের মেলবন্ধন। ভিন্ন স্বাদের সাহিত্যপিপাসু পাঠককুলের কাছে বইটি সমাদৃত হবে বলেই প্রত্যাশা।