
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা! স্ত্রীকে কখনো ‘মেয়ে’, কখনো ‘ভাইঝি’ সাজিয়ে একাধিক বিয়ে, গ্রেপ্তার দম্পতি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা এলাকায় সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্ত্রীকেই কখনো ‘মেয়ে’ আবার কখনো ‘ভাইঝি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে একের পর এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যেভাবে চলত এই প্রতারণা চক্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ঘটক চক্রের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে সম্প্রতি এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়। প্রায় এক মাস আগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে একটি মন্দিরে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের আসরে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই তরুণীর কাকা বলে পরিচয় দেন এবং পাত্রপক্ষকে জানান যে কনে তাঁর ভাইঝি। শুধু তাই নয়, তিনিই বিয়ের সমস্ত রীতিনীতি মেনে কন্যা সম্প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।
সন্দেহের সূত্রপাত ও চাঞ্চল্যকর সত্য প্রকাশ বিয়ের পর থেকেই নববিবাহিত যুবকের মনে নানা বিষয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। এরপর তিনি নিজের উদ্যোগে কনের পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তদন্ত করতে গিয়েই তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! তিনি জানতে পারেন, বিয়ের দিন যিনি কাকার পরিচয়ে কন্যাদান করেছিলেন, তিনি আসলে ওই তরুণীর স্বামী।
স্থানীয় সালিশি ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং অস্বীকারের সুরেই কথা বলেন। উপায় না পেয়ে ওই যুবক শেষ পর্যন্ত দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের জালে অভিযুক্তরা
অভিযোগ পাওয়ার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন অভিযুক্ত দম্পতি। তাঁরা স্বীকার করেন যে তাঁরা আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ঠিক একই কায়দায় ওই নারীকে কখনো মেয়ে বা কখনো ভাইঝি সাজিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের পর পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে বিবাহবিচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করে আরও অর্থ আদায় করাই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে আর কতজন এই চক্রের শিকার হয়েছেন এবং মোট কত টাকা বা গয়না হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিশদ তদন্ত চলছে। ধৃত দম্পতিকে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছে।
অবশেষে এই ঘটনা আমাদের সমাজ সচেতনতার বড় দৃষ্টান্ত উদাহরণ দেয়। যেকোনো পাত্র বা পাত্রীর ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড সঠিকভাবে যাচাই না করলে যে কেউ এমন বড় ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়তে পারেন।