নিজস্ব প্রতিবেদক,সুন্দরবন
বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন। আর সেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী হাজার হাজার মৎস্যজীবি বংশ পরম্পরায় সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীনালা, নদীখাঁড়িও গভীর জঙ্গল থেকে মাছ, কাঁকড়া, মিন,ঝিনুক, মধু ও কাঠ সংগ্রহ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবনের বেশীর ভাগ মানুষের চাষের জমি নেই। যে টুকু আছে সেখানে লবণাক্ত জল আর লবণাক্ত মাটির জন্য ফলন ভালো হয় না। তাই তারা প্রকৃতির দান সুন্দরবনের পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার আশা করেন সুন্দরবনের দরিদ্র মৎস্যজীবীরা। দরিদ্র মৎস্যজীবীরা ও তাদের পরিবারের সকল কে বাঁচার জন্য বাঘ, কুমীর, হাঙর ও বিষধর সাপের সাথে লড়াই করে কিংবা কুমির হাঙ্গরের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন কাটাতে হয় প্রতিনিয়ত। সেই সঙ্গে প্রাণ হাতে নিয়ে মাঝ নদীতে সামুদ্রিক ঝড় সহ্য করতে হয়। কারোর ওপর নির্ভরশীল না হওয়া এইসব মানুষ তাদের দক্ষতা সাহস কে ভর করে পেট চালানোর জন্যই মাঝে মধ্যেই স্বাধীন স্বতন্ত্র স্বাবলম্বী জীবিকার ওপর নেমে আসে মারাত্মক আক্রমণ এই সমস্ত অসহায় দরিদ্র মৎস্যজীবীদের ওপর। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা প্রতিনিয়ত জীবনকে বাজি রেখে জীবিকা নির্ভর করেন। ফলে বহু মানুষ বাঘের আক্রমণে মারা যান। সেরকম একটি অসহায় পরিবার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার ঝড়খালিতে
দুই সন্তানকে রেখে বাবা বাঘের আক্রমণে মারা গিয়েছিলেন।পরে মা সেই শোকে মারা যান । এবং অসহায়ের মধ্যে পড়ে যায়। এই দুই ভাই বোন। ঋতু গায়েন(১২)রুদ্র গায়েন(৮) তবে কোনোমতে তাদের জীবন যাপন কার্ড ছিল তার দাদু রবি গায়েন, ও দিদা আরতি গায়েন সাথে। আর সেই খবর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাছে পৌঁছালে দ্রুত
পড়াশুনার দায়িত্ব নিল সোনারতরী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও আরণ্যক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সোনারতরী ট্রাস্টের সম্পাদক শ্রীকান্ত বধুক বলেন,শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ওদের পাশে যতটুকু সম্ভব আমরা সবকিছু দিয়ে সহযোগিতা করব। ও তাদের ভবিষ্যতের জন্য যতদূর পড়তে চায়। এই দুই ভাই ,বোনকে আমরা তত দূর পড়াবো।এছাড়া আমাদের অত্যন্ত সুন্দরবন ঝড়খালি এলাকায় রয়েছে এক টাকার পাঠশালা। সেখানে পড়বে এখন দুই, ভাই বোন। এবং এদিন তাদের বাড়ি গিয়ে বই,খাতা, পেন, ব্যাগ সহ জামা,প্যান্ট তুলে দেন।ও পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করবেন আজ থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।উপস্থিত ছিলেন গৌতম মন্ডল, শ্রীকান্ত বোধক, শিক্ষক নিরুপম মন্ডল, আর্মি তপন মহাপাত্র সহ অন্যান্যরা।