
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রাজু শেখ, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম শহরের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না গ্যাস।
এর ফলে একদিকে যেমন পরিবহন চালকদের আয়-রোজি বন্ধ হওয়ার উপক্রম, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ভোর হওয়ার আগেই শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে জমে যায় গাড়ির দীর্ঘ সারি লাইন বিস্তৃত হয় প্রধান সড়ক পর্যন্ত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে ও অপেক্ষা করে চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না পরিবহন চালকরা।
অনেক পাম্পেই আবার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে "গ্যাস নেই" লেখা নোটিশ।
আব্দুল মানিক নামের চালক বলেন : ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখন সকাল ৯টা বাজে। এখনো পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারি নাই। দিনে জমার টাকাই তুলবো কখন আর সংসার চালাবো কখন? গ্যাস না পেলে গাড়ি কীভাবে চালাবো?
এই দিকে গ্যাস না থাকায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। স্টপেজে স্টপেজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মিলছে না বাহন, আর যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে—সেগুলোতে চাওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
সুমন নামের একজন পথচারী বলেন: "ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। অফিসে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। যেসব সিএনজি বা রিকশা পাওয়া যাচ্ছে, তারা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে আমরা এখন কি করবো পায়ে হাঁটা ছাড়া কোন উপায় নাই আমাদের ।
পাম্পের রাব্বি জানান : এদিকে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহের মাত্রা বা প্রেশার একবারে কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় একটি গাড়িতে রিফুয়েলিং করতেই স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ সময় লাগছে।
"আমাদের এখানে গ্যাসের প্রেশার একেবারেই কম। আগে যেখানে প্রতি লাইনে প্রেশার থাকতো ১২ থেকে ১৫ পিএসআই, এখন সেটা নেমে এসেছে ২ থেকে ৩-এ। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমরা চালকদের গ্যাস দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছি না।"