তমিজ উদ্দিন চৌধুরী,
ফেনী প্রতিনিধি।
অতি সম্প্রতি এক ভূয়া সংবাদে ভরপুর সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়া এক দিকে যেমন সত্য ঘটনা দ্রুত তুলে ধরে, ঠিক তেমনি কিছু কুচক্রী মহলের কারনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবরও ভাইরাল হয়ে যায়। তেমনি এক ঘটনা- ফেনীর পাঠান নগরে রাসেলস ভাইপার আতঙ্কের খবর। অনুসন্ধান করে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। যে ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে দেওয়া হয়েছে তা গুগল থেকে ডাউনলোড করা। তাই কেউ আতঙ্কিত হবেন না। অযথা গুজব ছড়াবেন না। আবার কেউ কেউ রাসেলস ভাইপার দেখলে রেসকিউ টিমে খবর দেওয়ার জন্য মোবাইল নম্বর দিচ্ছে! আরে ভাই, এটা কি ঘরে বসে থাকার জিনিস? আপনি দেখলেন, রেসকিউ টিমকে কল করলেন, তারা আসবে, সাপটি ধরে নিয়ে যাবে? আজব!!! আবার আরেক দল শুরু করেছে নতুন ধান্ধা। এন্টিভেনম বিক্রির ধান্ধা। একটি এন্টিভেনম এর দাম ছিল ১০০০ টাকা। অথচ তারা দাম লিখতেছে ১৪০০ টাকা। মজার ব্যাপার হলো আমাদের দেশে যে এন্টিভেনম পাওয়া যায়, তা ভারতীয় সাপের বিষ দিয়ে তৈরি। এটি আমাদের দেশে যে প্রাজাতির রাসেলস ভাইপার আছে তার সাথে মিল নেই। সোজা কথা এটি কার্যকর হবে না। প্রায় ৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী বলেন বাংলাদেশের প্রধান টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতা বশত কেউ এই সাপের গায়ে পারা দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়। তিনি আরো বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালো ভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালো মতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভিতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না। গত ১০-১২ বছর আগেও এই সাপটিকে বিলুপ্ত প্রজাতির মনে করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে এর বিস্তার আশংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে সরকারের আসু পদক্ষেপ গ্রহন অত্যান্ত জরুরী।