কুতুব উদ্দিন মোল্লা, বাসন্তী
জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ সঙ্গে নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারো মাস! হ্যাঁ এভাবেই বছরের পর বছর কুমির, বাঘ ও প্রকৃতির বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় সুন্দরবনের বাসিন্দাদের।উল্লেখ্য সুন্দরবনের ওপর আছড়ে পড়েছিল আম্ফান ২০মে। আইলা, বুলবুল, অথবা ইয়াস এর মতন ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনকে বারবার তছনছ করে দিয়ে গিয়েছে।আজও সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষরা ঘুরে দাঁড়াবার লড়াই করে চলেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো কবলে পড়ে নদী বাঁধ ভেঙে বারে বারে নদীর নোনা জলে প্লাবিত হতে হয়েছে সুন্দরবনবাসীদের! এমনকি এই প্লাবনের সময়ে কোন রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকার নদী ভাঙ্গনের ফলে জলের তোড়ে কত যে মৃত্যু দেখতে হয়েছে সুন্দরবনবাসীদের তার ঠিক ঠিকানা নেই! তাই সুন্দরবনবাসীদের বিনা খরচে কিভাবে এরকম বিপর্যয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার সেই পাঠ দিতে দেখা গেল সুন্দরবনের বিশিষ্ট সমাজসেবী ফারুক আহমেদ সরদার কে। তিনি এদিন প্রত্যন্ত সুন্দরবনের বাসন্তীর আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শিকারী পাড়াতে বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন ও কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠান কে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের যুবকদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেন। ও কিভাবে লাইফ জ্যাকেট বানাতে হয় তার পাঠ দিলেন। এবং সেই সঙ্গে এদিন তিনি লাইফ জ্যাকেট বানিয়ে ঐ গ্রামের একটি পুকুরে তাদেরকে সাঁতারও কাটালেন। এক কোথায় বললে বলা যায় ফারুক আহমেদ সরদার এদিন হাতে কলমে লাইফ জ্যাকেট তৈরী ও তার ব্যবহারের পদ্ধতি শিখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সুন্দরবনের ঐ গ্রামের কয়েকশো গ্রামবাসীকে। তার এমন উদ্যোগকে এলাকার মানুষজনেরা সাধুবাদ জানিয়েছে।
ছবি: নুরসেলিম লস্কর