
আব্দুল্লাহ বিন কামাল,
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘Sustainability Frontiers’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ‘Environmental Communication and Journalism’ কোর্সের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বিভাগীয় ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এবং ১৫তম ব্যাচের সহযোগিতায় সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন কোর্স শিক্ষক ও সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. জয়ন্ত কুমার বসাক এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. সোহেল খান।
শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, দলগত কাজ এবং একটি সেমিনার আয়োজনের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেমিনারে শিক্ষার্থীরা মূলত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন। বিষয়গুলো হলো—টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকোসিস্টেম সেবা এবং সবুজ প্রযুক্তি ও সার্কুলার অর্থনীতি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, “আমাদের বিভাগে প্রথমবারের মতো কোনো কোর্সের অংশ হিসেবে এ ধরনের সেমিনার আয়োজিত হলো। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন থেকেই সেমিনার পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা পাচ্ছে।” তিনি এই উদ্যোগের জন্য কোর্স শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাচের জন্যও এ ধরনের আয়োজন বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন।
কোর্স শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি অনেকটা এমএলএম (MLM) ব্যবসার মতো; যা একজন থেকে দ্রুত অনেকের মাঝে ছড়ায়। আমরা প্রত্যেকে অন্তত দুজনকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করলে একসময় পুরো পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে পড়বে। তবে নিজেকে আগে ব্যবহারিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে, অন্যথায় সব সচেতনতাই ব্যর্থ হবে।” শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
আয়োজক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, টেকসই উন্নয়ন কেবল বৈশ্বিক নয়, স্থানীয় পর্যায়েও বাস্তবায়ন করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে দায়িত্ববোধ তৈরিই ছিল সেমিনারের মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, শ্রেণিকক্ষে পড়া তাত্ত্বিক বিষয়গুলো বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে, সেমিনারের আলোচনার মাধ্যমে তারা সেসব বিষয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন।