
আব্দুল্লাহ বিন কামাল
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
পবিত্র কুরআন ও নানা উপহারসামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১২০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনটি অনুষদভিত্তিক দুটি ভিন্ন অধিবেশনে সম্পন্ন হয়।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এতে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
দুপুর ২টায় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদসহ আইআইএস এবং আইআইটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বিলাল হোসাইন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মিয়াজী ও তাহফিমুল মারুফ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য নয়, নিজেকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সময়। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে।” তিনি ক্যাম্পাসে মতভিন্নতা থাকলেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহনশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শাখা সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত নবীনদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করেন। নবীনদের পক্ষ থেকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি 'ফুনুন শিল্পীগোষ্ঠী'র পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে বাংলা অর্থসহ পবিত্র কুরআন, সাংগঠনিক বই, নোটপ্যাড, কলম, চাবির রিং ও উপহারের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়।