
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সংযোগকারী পিলটকাটা খালের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
৬ জুলাই (সোমবার) সকালে হঠাৎ সেতুর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের জানান, প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। সেতুটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ অথবা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বৃষ্টির কারণে একটি সঠিকভাবে নকশা ও নির্মিত সেতু ধসে পড়ার কথা নয়। তবে টানা ভারী বর্ষণে খাল বা নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে পিলারের নিচের মাটি সরে যেতে পারে, যাকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্কাওর (Scour) বলা হয়। এতে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে কাঠামোগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, রডে মরিচা, কংক্রিটে ফাটল, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, নকশাগত ত্রুটি, নির্মাণে অনিয়ম কিংবা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের মতো কারণও সেতু ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ভারী বৃষ্টি এসব বিদ্যমান দুর্বলতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, সেতুটি ঠিক কী কারণে ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিত হতে প্রকৌশলগত তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।