মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার
বাংলাদেশের মতো জায়গায় জনগণের সেবক হয়ে ধর্মকে হেয় করার রাজনীতি বিপজ্জনক ও ভয়ানক এবং ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদের প্রবণতা এবং অপরাধীদের অপরাধ অপকর্মে উস্কানিমূলক এবং অনুপ্রাণিত করা।
যাকাতকে চাঁদাবাজির সাথে তুলনা করা মানে ইসলামকে বিদ্রূপ করা। মহান আল্লাহ পাকের দেওয়া ফরজ বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো।
সম্প্রতি বিএনপির এক নেত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন—“যাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম।” এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক অজ্ঞতা নয়, বরং সরাসরি ইসলামকে অপমান করার শামিল। ইসলামের একটি হালাল ও বিধানকে অস্বীকার করা এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে অপরাধের রাজ্য কায়েমের পরিকল্পনা এবং অন্যায়ের প্রতি উসকানি দেওয়ার মতো কাজ। যার দায়ভার তার নিজেকেই নিতে হবে হয় ইহকালে না হয় পরকালে। যাকাত হলো আল্লাহর ফরজ ইবাদত, যা দরিদ্রের অধিকার হিসেবে নির্ধারিত। আর চাঁদাবাজি হলো জুলুম, অন্যায়, সমাজ ধ্বংসের হাতিয়ার। এ দুটিকে তুলনা করা মানে আলোকে অন্ধকারের সাথে মেলানো।
চাঁদাবাজি: সমাজের ক্যান্সার
চাঁদাবাজি সমাজে ভয়, অরাজকতা ও দুর্নীতি ছড়িয়ে দেয়। এটি মানুষের পরিশ্রমের অর্থ কেড়ে নেয়, ন্যায়বিচারকে হত্যা করে। জনসাধারণের জান ও মাল অবৈধভাবে জোর জুলুম আর জবরদখল করে নেয়। জীবন্ত সাজানো গোছানো প্রাণ ও পরিবারকে নিমিষেই ধ্বংস করে। অশান্তির নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। যারা চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয়, তারা আসলে সভ্যতার কবর খনন করে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে ওঠে ভয়, অরাজকতা আর দুর্নীতির সাম্রাজ্য। তারা চাঁদাবাজদের চেয়েও ভয়ানক এবং তারাই প্রধান অপরাধী। চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় জীবন আতঙ্কে থাকে।
যাকাত: মানবতার অক্সিজেন
অন্যদিকে যাকাত সমাজে ভারসাম্য আনে, দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটায়, ধনীদের সম্পদকে পবিত্র করে। সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে, অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন করে স্বচ্ছলতা ফিরে আনে। সামাজিক অবস্থান পরিবর্তন করে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিকতার ঘোষণা। যাকাতের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ ও আন্তরিকতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। মানুষ মানুষের যে দায়বদ্ধতা বা দায়িত্ব রয়েছে, অধিকার রয়েছে সেটিকে গাঢ় করে।
ধর্মকে হেয় করার রাজনীতি
একজন নেত্রী যদি প্রকাশ্যে বলেন যাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি ভালো, তবে তিনি মুসলমানদের ঈমানের সাথে খেলা করছেন। তিনি সত্য ও ন্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যায়কে সরাসরি প্রশ্রয় দিচ্ছেন এমন অন্যায়কে সরাসরি বৈধতা দিচ্ছেন। এটি ফ্যাসিবাদের চেয়েও এবং রাজনৈতিক অপরাধের চেয়েও বড় এটি ধর্মীয় অবমাননা,সরাসরি আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অস্বীকার করা। ধর্মকে হেয় করে রাজনীতি করার মানে হলো জনগণের আস্থা ধ্বংস করা। ইসলামকে বিদ্রূপ করে কেউ কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য হয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মতো একটি বড় ধরনের জঘন্য অপরাধকে তুচ্ছ করে তুলে ধরার মাধ্যমে অন্যায়কে সহজ করে দিয়েছেন এবং অন্যায়ের প্রতি অপরাধীদের উস্কে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধও বটে।
যাকাত হলো আল্লাহর ফরজ, চাঁদাবাজি হলো শয়তানি কাজ। এ দুটিকে তুলনা করা মানে ইসলামকে বিদ্রূপ করা। যারা এমন মন্তব্য করেন, তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো সমাজের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকেন। ধর্মকে হেয় করে রাজনীতি টিকতে পারে না—বরং তা ধ্বংসের পথেই নিয়ে যায়। চাঁদাবাজিকে উত্তম বলার কারণ তারা অন্যায়, অবৈধ, দূর্নীতি আর সাধারণ মানুষের অর্থ সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করার ধান্দা। তিনি একজন মুসলিম হয়ে পবিত্র কোরআনের এমন একটি আইনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নতুন করে ঈমান আনতে হবে। এমন একজন প্রতিনিধি দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কখনোই সাধিত হতে পারে না। যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ধর্ম ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কখনো জনসেবা করতে পারে না।