
মোঃ মুকিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে প্রশাসনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে চোখ ফাখি দিয়ে দিনে রাত অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলার কারণে নদীর দুই পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি স্থাপনা, ঘরবাড়ি, স্থানীয় লোকজনসহ স্কুল, কলেজে, মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের সড়ক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া ও মাটগাঁও গ্রাম সংলগ্ন নদী ভাঙ্গন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলছে। নদীর তীর ঘেঁষে বালু তোলায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ধসে পড়ছে। এতে আশপাশের বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের নদীভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই জানান, খাসিয়ামারা নদী থেকে দিন-রাত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের বিকট শব্দ ও ধুলাবালির কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম জানায়, ড্রেজার মেশিনের তীব্র শব্দে তারা অতিষ্ঠ। সেই শব্দের প্রভাব তাদের পড়ালেখার ওপরও পড়ছে।
নদীর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান শাহজালাল কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত্বাধিকারী হারুনুর রশিদ বলেন, ড্রেজার মেশিনটি আমাদের নয়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। যেহেতু পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাই তাদের স্বার্থে মেশিন সরিয়ে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পাইনি। আপনাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানলাম। এসিল্যান্ডকে বলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।