
মোঃ তরিকুল ইসলাম, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা):
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রচার-প্রচারণা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিয়াজুল করিম। উপজেলার কাকড়াকান্দা গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল হাছেন মাস্টারের পুত্র রিয়াজুল করিমের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়াজুল করিমের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল শৈশবেই। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বুঝে না বুঝেই তৎকালীন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী শাসনামলে তিনি বহুবার হামলা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হন।পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি ঐতিহ্যবাহী সুসং সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে তিনি ৩ বার যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন এবং একই বছর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার বসতবাড়ির একাংশ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রিয়াজুল করিমের নামে প্রায় দুই ডজন (২৪টি) রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি ২ বার কারাভোগ করেন। সর্বশেষ ২০২২ সালেও তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও দল ও সাধারণ মানুষের পাশ থেকে তিনি সরে যাননি। ২০২২ সালে তিনি পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, পরবর্তীতে পৌর বিএনপির ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও বর্তমান প্রার্থীতা নিয়ে রিয়াজুল করিম বলেন, "আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনও কোনো লেজুড়ভিত্তিক বা সুবিধাবাদী রাজনীতি করি নাই। দুর্গাপুরের সীমান্ত অঞ্চলের বহুল আলোচিত বালু বিক্রি, চোরাচালান (স্মাগলিং), চাঁদাবাজিসহ কোনো প্রকার অপরাধমূলক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং কখনও ছিল না। সবসময় পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগের রাজনীতি করার চেষ্টা করেছি।"তিনি আরও বলেন, "উপজেলার সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা আমার ত্যাগ ও সততার মূল্যায়ন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। দুর্গাপুর উপজেলাকে একটি শান্ত, অপরাধমুক্ত ও সাধারণ মানুষের বাসযোগ্য আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতেই আমি ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। জনগণের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"দুর্গাপুরের স্থানীয় ভোটার ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, বিগত দিনের হামলা, মামলা ও জেল-জুলুম উপেক্ষা করে মাঠে থাকা এই ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতার পক্ষে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। এবারের নির্বাচনে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।