
শাহিন আলম টেকনাফ প্রতিনিধি //
বৈরী আবহাওয়ায় টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রবল তোড়ে ভেঙে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দেড়শতাধিকের বেশি ঘরবাড়ি পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এছাড়া টেকনাফের হ্নীলায়ও ৩’শ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দ্বীপের সুইস গেইট অকেজো থাকায় জমে থাকছে পানি। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
শনিবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে সেন্টমার্টিনে। জোয়ার হওয়ায় বেড়েছে ঢেউ। ফলে শঙ্কা বাড়ছে দ্বীপের ৯ হাজার মানুষের। কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায়ও শুরু হয়েছে বৃষ্টি।
এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ইউপি সদস্য আল নোমান বলেন, ‘টানা বৃষ্টির পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানিতে দ্বীপে দেড়শ বেশি ঘরবাড়ি পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এতে দ্বীপের মানুষের কষ্টের মাত্রা বেড়েছে। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। মূলত সুইস গেইট থেকে পানি বের হতে না পারায় এলাকাগুলোতে পানি জমে আছে। এতে মানুষের ঘরবাড়ি পানি বন্দি হয়েছে। এই
সুইস গেটের মেরামতের জন্য বারবার বলা হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
দ্বীপবাসী বলছে, শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি পাত অনেকেও চলমান রয়েছে। যার কারণে দ্বীপের মাঝের পাড়া, পশ্চিম পাড়া, গোলা পাড়া ও পূর্ব পাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানকার দেড়শ বসবাসকারীদের ঘরবাড়ি এখনও পানিবন্দি হয়ে আছে।
মাঝের পাড়া বদি আলম বলেন, ‘আমার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে আমরা আমি বন্দি হয়ে আছি। পরিবারের সদস্যদের অন্যত্রে পাঠিয়ে দিয়ে ঘরে অবস্থান করছি। আমরা কেউ এখনো মুখে কোন খাবার দিতে পারেনি। রান্না করার মতো কোন পরিবেশ নেই। এভাবে চললে রাতে থাকা নিয়ে খুব চিন্তিত মধ্য রয়েছি। আমার মতো এখানে অনেক পরিবার পানিবন্দি আছি। কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি।
দ্বীপের বসবাসকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দ্বীপে কয়েশ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এদের কেউ খোঁজ খবর নিতে আসেনি। বঙ্গোপসাগরের ভাটা হলে জোয়ারের পানি এখনো নামেনি। মূলত সুইস গেটের অভাবের কারণে পানি নামছে না। এটি এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের উচিত এইটি সমাধানের পথ বের করা।
এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফয়েজ বলেন, ‘দ্বীপে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে জোয়ারের গতির তীব্রতার কারণে অনেক গ্রামে পানি ঢুকেছে। যার ফলে কয়েকশ ঘরবাড়ি পানি বন্দি হয়ে পরেছে। আমরা তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।
এদিকে খাল বরাত হয়ে যাওয়ায় টানা বৃষ্টিতে টেকনাফ সীমান্তের বসবাসকারী হ্নীলার প্রায় তিনশ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে বলে জানিয়েছেন হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে খাল বরাত হয়ে যাওয়ায় আমার এলাকায় কয়েকশ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে। তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও সাগরের জোয়ারের পানিতে দ্বীপের কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। তাদের সহায়তায় দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় কিছু ঘরবাড়ি পানি বন্দি রয়েছে। তাদেরও আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।