1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
তিস্তার তীর সংরক্ষণ কাজের আড়ালে অবৈধ বালু বাণিজ্য: রাজারহাটে পুকুর ভরাট ও স্কুল মাঠ ভরাটের হিড়িক। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

তিস্তার তীর সংরক্ষণ কাজের আড়ালে অবৈধ বালু বাণিজ্য: রাজারহাটে পুকুর ভরাট ও স্কুল মাঠ ভরাটের হিড়িক।

আব্দুল হাকিম সবুজ ​রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১২৯ বার পঠিত

আব্দুল হাকিম সবুজ
​রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে ভয়াবহ অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীর রক্ষার নামে উত্তোলিত বালু দিয়ে দেদারসে চলছে পুকুর ও মাঠ ভরাটের কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখেও থামছে না এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি মৌজা ও গাবুরহেলান এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্থানীয় দুটি পুকুর সম্পূর্ণ ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু পুকুর ভরাটই নয়, প্রকল্প এলাকা থেকে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু বাইরে পাচার ও বিক্রি করা হচ্ছিল।

​ ইতোপূর্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালায় এবং বালু বহনে নিয়োজিত একটি ট্রাক্টরের মালিককে জরিমানাও করে। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি বালু লুটপাটের ব্যবসা।

​বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুরহেলান এলাকায় পুকুর ভরাটের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সাব-ঠিকাদার আব্দুস সালাম সর্দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীর সহযোগিতায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক আদেশে কবরস্থান নির্মাণের জন্য ওই পুকুর ভরাট করা হয়েছে।

​তবে সাব-ঠিকাদারের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, পুকুর ভরাট করে কবরস্থান নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বা সত্যতা সেখানে নেই; এটি মূলত অবৈধ বালু বাণিজ্যের একটি অজুহাত মাত্র।

​অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সরিষাবাড়ি ও খিতাবখাঁ এলাকাতেও। নদী থেকে বালু তুলে পুকুর ভরাটের চেষ্টা চালানো হলে স্থানীয় ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

​কিন্তু গত দুইদিন ধরে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সরিষাবাড়ি এলাকায় তিস্তা নদীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট থেকে পুনরায় বালু তোলা শুরু হয়েছে। এবার সেই বালু নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে খিতাব খাঁ প্রাইমারী স্কুলের মাঠ। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই বালু ব্যবসার সাথে খিতাব খাঁ স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক বোঝাপড়া বা আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও রয়েছে।
​পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি কাজের আড়ালে এভাবে প্রকাশ্যে নদী ধ্বংস ও অবৈধ বালু বাণিজ্যের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট থেকে বালু তোলায় একদিকে যেমন নদীভাঙনের তীব্র আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে পুকুর ভরাটের ফলে হুমকিতে পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ।

​তিস্তা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা আব্দুল হাকিম সবুজ বলেন তিস্তার পাড় সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত একটি সিন্ডিকেট এই বালু ব্যবসা করছে। এর ফলে আমরা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রোকৌশলী ময়দুল ইসলাম রনি বলেন ঐ এলাকায় বর্তমানে তিস্তার পাড় সুরক্ষা প্রকল্পের কোনো কাজ চলমান নেই। ফলে এই দায় যারা বালু তুলছেন তাদেরই।
এ বিষয়ে রাজারহাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ তানজিলা তানজিম বলেন আমি উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে কথা বলেছি। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park