1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
জুলাই বারবার ফিরে আসলেও জুলাইয়ের সেই উত্তাপ আর নেই! জুলাই শহীদের সাথে সাথে তা হারিয়ে গেছে! উস্তাদ সুলতান নাঈম। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

জুলাই বারবার ফিরে আসলেও জুলাইয়ের সেই উত্তাপ আর নেই! জুলাই শহীদের সাথে সাথে তা হারিয়ে গেছে! উস্তাদ সুলতান নাঈম।

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭২ বার পঠিত

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার

আজ একত্রিশে জুলাই। ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখটা এসেছে ঠিক আগের মতোই, কিন্তু বুকের ভেতর যে উত্তাপ একদিন এই মাসটাকে ঘিরে জ্বলে উঠত, সেই উত্তাপ আজ আর নেই। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মৃত্যুকে সামনে রেখে যে মিছিলে হেঁটেছিলাম, যে স্লোগানে গলা মিলিয়েছিলাম, সেই আবেগ আজ কোথায় হারিয়ে গেছে, তা খুঁজে বের করতে গিয়ে একটাই উত্তর সামনে আসে। জুলাই আমাদের সবার ছিল না, জুলাই হয়ে গিয়েছিল কয়েকজন সমন্বয়কের সম্পত্তি, আর সেই দখলদারি শুরু হয়েছিল ছত্রিশে জুলাইয়ের ঠিক পরপরই।

যে জুলাই লক্ষ মানুষের রক্তে, ঘামে আর অশ্রুতে লেখা হয়েছিল, সেই জুলাইকে একদল মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত পুঁজি বানিয়ে ফেলল। রাস্তায় যারা বুক পেতে দিয়েছিল, যাদের চোখ গুলিতে ঝলসে গেছে, যাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়, তাদের জন্য এই দখলদার সমন্বয়কদের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। জুলাই আহতরা আজও ধুঁকছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ছিল যাদের, তারা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারায়।

আর এই সময়টাতেই আমরা দেখলাম দেশের ভেতর এক নতুন ধরনের অরাজকতার জন্ম। খুন, গুম আর ধর্ষণের খবর প্রায় প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতা দখল করে রেখেছে, অথচ ন্যায়বিচার নামক শব্দটি ক্রমশ একটি অলীক প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হচ্ছে। যাদের বিচার হওয়ার কথা ছিল দ্রুততম সময়ে, তাদের ফাইল বছরের পর বছর ধরে টেবিলে টেবিলে ঘুরছে, আর যাদের হাতে রক্ত লেগে আছে বলে সবাই জানে, তারাই কোনো না কোনোভাবে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার সমাজে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে বারবার মনে হয়েছে, জুলাই আন্দোলন যে ন্যায়বিচারের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন যেন প্রশাসনিক ফাইলের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

একইসাথে বিদেশি শক্তির সাথে ক্ষমতাসীনদের সমঝোতার যে প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, তাও আমার কাছে জুলাইয়ের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে। আমেরিকার সাথে সখ্যতা বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা এবং তাদের স্বার্থের সাথে নিজেদের নীতিকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা নিয়ে সচেতন মহলে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। যে আন্দোলন একটি স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়ে বৈদেশিক শক্তির সাথে এই ধরনের সমঝোতার চেষ্টা অনেকের চোখেই একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

সিলেটের হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনেও তাই আজ আর বুকের ভেতর কোনো ঝড় ওঠে না। গত মঙ্গলবার রাতে কোর্ট মসজিদের পাশে সারজিস আলম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো নেতারা পূর্বনির্ধারিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রায় অংশ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেই খবরে সাধারণ মানুষ যতটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, আমার ভেতরে ততটা প্রতিক্রিয়া কাজ করেনি। কারণ সময় আমাকে শিখিয়েছে, যাদের জন্য জুলাই হয়েছিল, সেই আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে এই নেতাদের প্রকৃত অবদান কতটুকু ছিল, তা মেপে দেখার সুযোগ ইতিমধ্যে আমাদের হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস এই যে, যেদিন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছিল, সেদিনই জুলাইকেও তার সাথে হত্যা করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তার আদর্শের সাথে আমার নিজের চিন্তাধারার অনেক ক্ষেত্রেই মিল ছিল না, কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইসলামপন্থী রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো, তার প্রেক্ষাপট, তার যুক্তি, সাধারণ মানুষের কাছে এত সহজ ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার সামর্থ্য আর কারো মধ্যে সেভাবে দেখা যায়নি। তিনি একাই যেন একটি জটিল আদর্শিক অবস্থানকে সাধারণ মানুষের ভাষায় অনুবাদ করে দিতে পারতেন। তার শূন্যতা তাই কেবল একটি রাজনৈতিক শূন্যতা নয়, এটি একটি বাচনিক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে মাসের পর মাস পিছিয়ে গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন যতবার আদালতে জমা দেওয়ার কথা ছিল ততবারই তা পিছিয়েছে, প্রধান আসামিদের গ্রেফতার আজও সম্পন্ন হয়নি, এই পুরো প্রক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে, হাদীর সাথে সাথে জুলাইও দাফন হয়ে গেছে। হাদীর বোনের কণ্ঠে যে আর্তনাদ শোনা গিয়েছিল, বিচার না হলে আবারও জুলাই ফিরে আসবে বলে যে হুঁশিয়ারি তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, সেই কথাগুলো আজও কানে বাজে।

এই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে কেউই সম্পূর্ণভাবে মুক্ত নয় বলে আমি বিশ্বাস করি। বিএনপি, জামায়াত, শিবির কিংবা এনসিপি, প্রত্যেক পক্ষের বিরুদ্ধেই কোনো না কোনোভাবে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, একজন শহীদ নেতার হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, সেই দায়িত্ব পালনে তাদের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। বহুযুগ সাধনার পর আমরা হাদীর মতো একজন কণ্ঠস্বর পেয়েছিলাম, আর সেই কণ্ঠস্বরকে যারা স্তব্ধ করে দিল, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।

প্রতি বছর জুলাই আসবে, আগস্ট আসবে, চলেও যাবে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা পূরণের পথে যারা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাদের সেই ব্যর্থতা আমরা কখনো ভুলে যাব না। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলই কমবেশি সচেষ্ট হয়ে উঠেছে, এই বাস্তবতা আজ আর কারো কাছে অজানা নয়, এবং এটিও জুলাইয়ের চেতনার প্রতি একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।

জুলাই আমাদের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, কিন্তু ইতিহাস আমাদের এটাও শেখায় যে, যে কোনো মহৎ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তার নিজের ভেতরে জন্ম নেওয়া লোভ আর স্বার্থপরতা। যারা রাস্তায় ছিলেন, যারা মায়ের কোল খালি করে চলে গেছেন, যারা সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন, তাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে যে নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হলো, সেই কাঠামোয় তাদের জন্য যথাযথ জায়গা তৈরি হলো কিন

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park