আসাদুজ্জামান সাগর সম্পাদক:
আমরা জুলাই, জুলাই করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জুলাই আন্দোলন আসলে কীসের ভিত্তিতে হয়েছিল? কোন সাহস ও উদ্দীপনায় এই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল বলে আপনি মনে করেন?
তবে বলে রাখি, জুলাই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের ছিল না; ছিল দেশের বিবেকবান মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। যে কারণে দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে প্রাণ দিতেও দ্বিধা করেনি।
অনেকেই জুলাইকে নিয়ে কটূক্তি বা বিদ্রূপ করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে, এখনো হচ্ছে? সেই সব দেশের ছাত্রদের আপনি কী বলবেন?
দেশগুলো হলো—থাইল্যান্ড, হংকং, মিয়ানমার, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, ফ্রান্স, জর্জিয়া, সেনেগাল, বাংলাদেশ, কেনিয়া, সার্বিয়া, নেপাল, মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, পেরু, ফিলিপাইন, তিমুর-লেস্তে, মেক্সিকো ও বুলগেরিয়া।আমাদের দেশে বিগত সময়ে কী হয়েছে, তা সকলেরই জানা। তাই দেশকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন, জুলাইকে ভুলে যাবেন না, জুলাইয়ের অসম্মান করবেন না।
জুলাই ছিল বাংলাদেশের মানুষের এমন একটি গণঅভ্যুত্থান, যেখানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একযোগে রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছিলেন। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন অসংখ্য তরুণ-তরুণী। তারাও ছিলেন আপনাদেরই সন্তান।
আপনারা বাবা-মা কত কষ্ট করে সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন। সেই সন্তান যখন পড়াশোনা করে বুঝতে পারে, তার মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না, তখনই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একপর্যায়ে যোগ দেন দেশের সাধারণ মানুষ।একপর্যায়ে ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এক দফা দাবি সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এমনকি যাঁদের সন্তানরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আন্দোলন দমনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানরাও ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এসেছে জুলাইয়ের নতুন অধ্যায়। তাই বলি, এই জুলাই আপনাদের সবার—কোনো পরিবারতন্ত্রের নয়, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীরও নয়। জুলাই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতা থাকলে তার সমালোচনা করতে হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সহজ নয়। এর মধ্যে দলীয় কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে দলের পাশাপাশি দেশের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তাই দলীয় কর্মী, বিরোধী দল ও দেশের সব জনগণের প্রতি আহ্বান—আসুন, দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করি এবং আইনব্যবস্থাকে একটি বাস্তবসম্মত, নিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় পরিণত করার চেষ্টা করি।
বিচার করতে হবে, বিচার করতেই হবে। অপরাধের বিচার না হলে জনগণ সরকারের ওপর আস্থা হারায়। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।