
মো:কোরবান আলী রিপন, উল্লাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি :
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সরকারি কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবানে ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচি পালনের পরিবর্তে শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে শিক্ষকদের এই ভ্রমণ আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাতীয় দিবসের কর্মসূচি উপেক্ষা করে সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন ভ্রমণে অংশ নেওয়া কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত। বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন শিক্ষকের অংশগ্রহণের বিষয়টি সাধারণ কোনো ভ্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রশাসনিক অনুমোদন, দাপ্তরিক ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগতির বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগকারীরা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
ভ্রমণটি সরকারি অনুমোদনে আয়োজন করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না, কোন প্রক্রিয়ায় ৩৫ জন শিক্ষক এতে অংশ নিয়েছেন এবং জাতীয় দিবসের সরকারি কর্মসূচিতে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ কী—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব, জাতীয় দিবসের কর্মসূচি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
প্রশ্ন এখন একটাই—জাতীয় দিবসের সরকারি কর্মসূচি রেখে এই ভ্রমণের আয়োজনের পেছনে কী ছিল? এর যথাযথ ব্যাখ্যা কি দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?