
মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী গ্রামে কুশিয়ারা নদীর তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনে ফসলি জমি, রাস্তা ও কয়েকশ বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের ফলে হুমকিতে রয়েছে শত শত বাড়িঘর। এই ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ জনপদসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়রা জানান, নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাস্তা, ফসলী জমি, ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে বালিশ্রী গ্রাম এলাকায় তীব্রতা এতই বেশি যে রাত-দিন সমান তালে বাড়িঘর ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। কৃষক পরিবার হারাচ্ছে তাদের জীবিকা, ঘরবাড়ি এবং বেঁচে থাকার শেষ সম্বল।
জানা যায় দীর্ঘ দিন থেকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে হুমকিতে পড়েছে স্কুল,মাদ্রাসাসহ দুই শতাধিক বসত ভিটা। বিগত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ টি ঘরবাড়ি এবং শতাধিক আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বালিশ্রী গ্রামের ইয়াবর মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, জমি গেল কুশিয়ারা নদীর পেটে।এর আগে নদী ১২ বিঘা জমি ঘ্রাস করেছে। এখন বসত ভিটাও নেই।কিভাবে চলবে আমাদের সংসার আল্লাহই জানেন।
একই গ্রামের তরুন সমাজ সেবক আশরাফুল হক বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে বালিশ্রী গ্রামের অনেক ঘরবাড়ি, জমি চলে গেছে। মসজিদ, কবরস্থান, চাষাবাদের জমি চলে গেছে বাকি জমি এখন ভাঙনের হুমকিতে।
জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুজ্জামান বাদশা বলেন, আমার এলাকায় শতাধিক বিঘা জমি ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। আরো প্রায় ৩০০ বিঘা জমি ঝুকিপূর্ণ। কৃষক পরিবারগুলো হারাচ্ছে জীবিকা, ঘরবাড়ি এবং বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু। দীর্ঘ দিন থেকে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কারও হস্তক্ষেপ নেই সেদিকে। এতে করে ভাঙনের ভয়াল থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শতশত মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু পরিদর্শনে আসছে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার সীল জানান, কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গনে বালিশ্রী গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খবর পেয়েছি। ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।