
বেবি চক্রবর্ত্তী: হুগলী:- চুঁচুড়ার প্রখ্যাত সমাজসেবামূলক সংগঠন আরোগ্য প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করল “পান্তা উৎসব”, বর্ষাকে আহ্বান জানানোর এক অনন্য সাংস্কৃতিক প্রয়াস। বাঙালি রন্ধনশৈলীর ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এবং বর্ষার আগমনে মাটির ঘ্রাণ, জলজ অনুভূতি আর পান্তা ভাতের সহজ-সরল স্বাদে যেন ডুবে গেল গোটা শহর।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল পান্তা ভাত, যার সঙ্গে ছিল প্রায় ১৮ রকমের পদ। প্রতিটি পদেই ছিল বাঙালির ঘরের রান্নার স্বাদ ও আবেগ:
ভর্তা ও সাদাসিধে উপকরণ: শুকনো লঙ্কা ভাজা, কাঁচা লঙ্কা, নুন, লেবু, আলু ভাতে
তেলেভাজা: মাছের ডিমের বড়া, পিয়াজি, মুসুর ডালের বড়া
বিশেষ পদ: মাছের মাথা দিয়ে ছ্যাঁচড়া, চুনো মাছের ঝাল, মাছের কালিয়া, পাবদা মাছ
পাশাপাশি: চাটনি, পাপড়, আম ও কাঁঠালের রকমারি পদ
এই মেনু যেন একসঙ্গে গ্রামীণ ও নাগরিক বাঙালির রসনার মিলনবিন্দু।
উৎসব ঘিরে বর্ষার আবাহনী পরিবেশে সাজানো হয়েছিল স্থানীয় প্রাঙ্গণ। কাদামাটির হাঁড়ি, তালপাতার পাখা, ধুনুচি আর ঢাকের শব্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ। বর্ষার আগে প্রকৃতিকে আহ্বান জানাতে এমন এক ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা বাংলার হৃদয়ে মমতা সোশ্যাল মিডিয়ার রাজ্যের সহ-সভাপতি উজ্জল চক্রবর্তী,বাংলার হৃদয়ে মমতা সোশ্যাল মিডিয়ার রাজ্যের কনভেনর অভিষেক গুপ্তা, চুঁচুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, কোদালিয়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান কৃষ্ণা দাস সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও আপামোর জনসাধারণ উপস্থিত ছিলো।
এই উৎসব সম্পর্কে আরোগ্যের কর্ণধার তথা কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ দত্ত বলেন—
“বর্ষার সঙ্গে বাঙালির আবেগ গভীর। পান্তা ভাত শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের শিকড়ে ফেরা। আমরা এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সেই শিকড়ের স্বাদ দিতে চাই।
চুঁচুড়া ও আশেপাশের বহু মানুষ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। শহরের বিশিষ্টজন, সাংস্কৃতিক অনুরাগী, গৃহিণী থেকে তরুণ প্রজন্ম—সকলের উচ্ছ্বাসে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।