চট্টগ্রাম মহানগরীর মুরাদপুরে পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগরীর সাবেক সভাপতি ও গাজীপুরের এক মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ রঈস উদ্দিনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মুরাদপুরে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়।
এতে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে।
সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চট্টগ্রাম মুরাদপুর মোড় অবরোধ করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা নেতাকর্মীরা। সকাল ১১টার দিকে তাদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মুরাদপুরে মোড়ে পরিস্থিতি সাময়িক নিয়ন্ত্রণে আসার পর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা মুরাদপুর রেলগেট এলাকায় এসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সেনাবাহিনীর একটি দল।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সেলের প্রধান ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, “আমাদের দিক থেকে প্রথমে হামলা হয়নি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলাম। পুলিশ আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেককে আটক করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলায়মান সাংবাদিকদের জানান: সকাল থেকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। আমরা তাঁদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তাঁরা সড়ক থেকে সরে না আসায় সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিবিরহাট সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। তাঁরা দুপুর সাড়ে ১২টার পর সেখানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে বেলা ১টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একদল যুবককেও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিতে দেখা যায়।