
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ
গৌরীপুর উপজেলার কাইছারচর মড়লবাড়ী এলাকায় দুধের শিশুর মা আঁখির মৃ/ত্যু ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হ/ত্যা করে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আ/ত্মহ/ত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহত আঁখির বাড়ি শম্ভুগঞ্জের চরহরিপুর এলাকায়। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার বিয়ে হয় জাকির হোসেনের সঙ্গে। জাকির ভালুকায় একটি বেকারিতে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত। বিয়ের সময় যৌতু/কের বিষয়ে যে শর্ত ছিল, তার কিছু অংশ বাকি থাকায় বিয়ের পর থেকেই আঁখির ওপর নির্যাতন চলছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের। বিশেষ করে শাশুড়ির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে পরিবার দাবি করেছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের সূত্র ধরে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামী জাকির, ভাশুর মাসুদ, মাসুদের স্ত্রী এবং শাশুড়ি মিলে আঁখিকে মারধর করেন। নির্যাতনের চরম পর্যায়ে তার মৃ/ত্যু হয় বলে অভিযোগ। পরে দ্রুত গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বলেও দাবি পরিবারের।
বাড়ি অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা দেখে পাশের বাড়ির এক নারী আঁখির বাবা হেলাল ফকিরকে ফোনে বিষয়টি জানান। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে গৌরীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং ছবি তোলা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা এটিকে স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।