
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চান্দরা এলাকায় বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লি বিদ্যুৎ, চন্দ্রা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আন্দোলন আরও জোড়ালো হয়ে ওঠে। এলাকার সকল শিল্প কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকগণ আন্দোলনে অংশ নেন।
এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌচাক এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। টায়ার ও বিভিন্ন কাগজ জ্বালিয়ে রাস্তায় অবস্থান করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আমাদের দাবি আমাদের দাবি মানতে হবে মানতে হবে। কথায় কথায় চাকরি ছাড় চাকরি কি তোর বাপ দাদার।
একপর্যায়ে স্থানীয় সাদমা টেক্সটাইল ও আরও কিছু শিল্প কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাদমা টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক মো সুজন জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কারখানার সামনে এসে ভাঙচুর শুরু করেন। পরে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁকেও আন্দোলনে যোগ দিতে বলা হয়েছিল, তবে তিনি অংশ নেননি বলে জানান। আন্দোলনরত অন্য একজন শ্রমিক বলেন দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে আমাদের এই বেতনে জীবন চালানো কঠিন। আমাদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। আর আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন লাগাতার চলমান থাকবে।
এসময় কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ আসছে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার মালিকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।