
আরিফুল ইসলাম পাঠান
বাবুটিপাড়ার,
ঐতিহ্য বাঁচান, পরিবেশ বাঁচান। সরকারের কাছে ২১ নং বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের একটাই দাবি - আমাদের প্রাণের খালটিকে বাঁচান।
এক সময়ের মাছে ভরা, স্বচ্ছ পানির প্রাচীন খাল আজ কচুরিপানার দখলে। ২১ নং বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি ছিল এলাকার জেলেদের জীবিকা ও গ্রাম বাংলার দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য।
*আগে যা ছিল:*
বর্ষা-শীতে এই খাল থেকে টেংরা, পুঁটি, কই, মাগুর, শিং, খলিশা সহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এক জালেই সংসারের চাহিদা মিটতো। শিশুরা এই খালে গোসল করতো, কৃষকরা সেচ দিতো।
*এখন যা হচ্ছে:*
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরো খাল কচুরিপানায় ভরে গেছে। পানি চলাচল বন্ধ। পানিতে দুর্গন্ধ। অক্সিজেনের অভাবে মরে যাচ্ছে মাছ। আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার চিরচেনা দেশীয় প্রজাতি। জেলেরা পেশা হারিয়ে দিশেহারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: রফিক বলেন, *"এই খালই ছিল আমাদের গর্ব। এখন এটা দেখলে কষ্ট লাগে। সরকার একটু নজর দিলেই আবার আগের রূপ ফিরে আসবে।"*
*সরকারের নিকট ২১ নং বাবুটিপাড়াবাসীর ৩ দফা দাবি:*
1. *দ্রুত খাল খনন ও কচুরিপানা মুক্ত করা:* যন্ত্রের মাধ্যমে খালের তলদেশের ময়লা ও কচুরিপানা অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা।
2. *দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষা:* খালটিকে "মৎস্য অভয়ারণ্য" হিসেবে ঘোষণা করে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা।
3. *স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন:* প্রতি বছর খাল পরিষ্কার ও সংরক্ষণের জন্য বাজেট বরাদ্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে কমিটি গঠন।
২১ নং বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ সর্বস্তরের জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
খাল বাঁচলে বাঁচবে পরিবেশ, বাঁচবে দেশীয় মাছ, বাঁচবে বাবুটিপাড়ার মানুষ।