
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।
উস্তাদ সুলতান নাঈম তা স্বাক্ষাৎ কারে বলেন
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বাংলাদেশের বাজারে নতুন ব্যাংক নোট আসার খবর ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষ করে ২০ টাকার নোটে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদের পরিবর্তে কান্তজিউ মন্দিরের ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
তবে, এই বিতর্কের ভেতরেও আমার ভাবনাগুলো একটু ভিন্ন পথ ধরে এগোচ্ছে।
ব্যক্তিগতভাবে, ২০ টাকার নোটে মসজিদের স্থলে মন্দিরের ছবি ব্যবহারে আমার মধ্যে তেমন কোনো বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি হয়নি, না ভালো লাগা, না খারাপ লাগা। কারণ, বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের মুদ্রা কখনো ইসলামী শরিয়াহর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার আলোকে প্রস্তুত হয়নি। আমরা বহু বছর ধরে এমন নোট ব্যবহার করে আসছি, যেখানে মসজিদের ছবি থাকলেও তা কোনো ধর্মীয় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
যেমন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেকেই এই মসজিদের ছবি সংবলিত নোট ব্যবহার করেছেন, মন্দিরে গেছেন, তাতে তাঁদের কোনো সমস্যা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তাহলে আজ যদি মসজিদের স্থানে একটি মন্দিরের স্থাপত্যের ছবি আসে, তাতে সমাজে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, কান্তজিউ মন্দিরের ছবিতে কোনো দেবমূর্তি বা পূজার প্রতিকৃতি দেখানো হয়নি—শুধুমাত্র স্থাপত্যিক সৌন্দর্যই তুলে ধরা হয়েছে।
আমার স্মৃতিতে একটি ঘটনা আজও জ্বলজ্বলে—একসময় ১০ টাকার নোটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের গম্বুজের ওপর “আল্লাহু আকবার” লেখা থাকায় আমি সেই নোট পকেটে নিয়ে টয়লেটে যেতে দ্বিধাবোধ করতাম। এমনকি, একবার মানিব্যাগে সেই নোট থাকার কারণে টয়লেটের বাইরে মানিব্যাগ রেখে ঢুকেছিলাম, ফিরে এসে দেখি মানিব্যাগটাই হারিয়ে গেছে। সেই মুহূর্তটি আজও আমার জন্য শিক্ষণীয়।
আমার দৃষ্টিতে, মসজিদ বা মন্দিরের ছবি থাকাটা তেমন গুরুতর ধর্মীয় ইস্যু নয় যতটা গুরুতর বিষয় প্রাণীর ছবি টাকায় থাকা। ইসলামী শরীয়তের আলোকে প্রাণীর ছবি ও প্রতিকৃতি ব্যবহারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ, আমরা বছরের পর বছর ধরে প্রাণীর ছবি সংবলিত মুদ্রা ব্যবহার করছি। সে তুলনায় একটি স্থাপত্যিক ভবনের ছবি—তা সে মসজিদ হোক কিংবা মন্দির—তেমন কোনো নতুন ধর্মীয় সংকট সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি না।
পরিশেষে বলি, এই বিতর্কে যার যার মত প্রকাশের অধিকার আছে। কেউ বিরোধিতা করতেই পারেন, এটি তাঁর নিজস্ব মতামত। কিন্তু এই ইস্যুতে আমি কোনো উত্তেজনা বা তীব্র প্রতিক্রিয়ার জায়গা দেখি না। আমার দৃষ্টিতে, আমাদের সমাজে আরও বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে—যেগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবা ও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
উস্তাদ সুলতান নাঈম
একজন উদীয়মান তরুণ আলেম
একজন ইসলামী গবেষক, একজন মানবতার ফেরিওয়ালা, একজন গায়ক,সরকার, গীতিকার।
ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী, পতিতা বৃত্তি করা নারী, বিপথগামী নারী, অবহেলিত নারী, বন্ধা নারী, অসহায় নারীর বিবাহ সম্পাদনের ব্যবস্থাপক, এছাড়াও সামাজিক, সাংগঠনিক, রাস্ট্রীয় কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকরী নিবেদিত একটি প্রাণ।