
মো:কোরবান আলী রিপন উল্লাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি :
সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালের রোগীদের জন্য পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকলেও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারি মেনু অনুযায়ী নির্ধারিত খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের দুপুরের খাবারে অল্প পরিমাণ ভাত, পাতলা ডাল এবং নিম্নমানের মাছ ও তরকারি পরিবেশন করা হচ্ছে। খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক রোগী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, “খাবারের স্বাদ তো দূরের কথা, অনেক সময় খাবার মুখে তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে স্বজনদের মাধ্যমে বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।”
এক রোগীর স্বজন জানান, “সরকার রোগীদের জন্য খাবারের বাজেট দেয়, কিন্তু সেই খাবার রোগীদের পাতে পৌঁছায় না। হাসপাতালের খাবার খাওয়ার মতো না হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীকেই বাইরে থেকে খাবার এনে দিতে হচ্ছে।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও রোগীরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ অনিয়ম নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার স্থানীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় অনিয়ম বন্ধ হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বছরের পর বছর একই চিত্র অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোনেয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—রোগীদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও কেন তাদের নিম্নমানের খাবার খেতে হচ্ছে? সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোগীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।