
মো:কোরবান আলী রিপন, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
২১ জুলাই ২০২৫ খ্রিঃ ডিসিষ্ট রুহুল আমিন জেলহক(২০) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ী চালায়। গত ১৩/০৭/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় রুহুল আমিন জেলহক বাড়ী হতে ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ী নিয়ে বের হয়। রাত্রি ১০.০০ ঘটিকা পার হওয়ার পরেও বাড়ীতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জেলহকের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে খোঁজাখুজি করে কোথাও সন্ধান পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে গত ১৮/০৭/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় ডিসিষ্ট জেলহক এর পরিবারের লোকজন লোকমুখে জানতে পারেন যে, উল্লাপাড়া থানাধীন দূর্গানগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ক্ষুদ্র মনোহরা গ্রামস্থ জনৈক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এর গাছ বাগানের দক্ষিণ পাশে ফুলঝার নদীর মধ্যে কচুরী পানা দ্বারা ঢাকা অবস্থায় একজন পুরুষ ব্যক্তির গলায় গামছা দ্বারা মোড়ন দেওয়া অর্ধগলিত ও পোকাসহ পচন ধরা মৃত দেহ ভাঁসছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে জেলহক এর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে মৃত দেহ দেখে রুহুল আমিন জেলহক এর মৃত দেহ বলে পরিবারের লোকজন সনাক্ত করেন। অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা গলায় গামছা দ্বারা মোড়ন দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ব্যাটারী চালিত অটো ভ্যানটি ছিনতাই করতঃ লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। এ সংক্রান্তে ডিসিষ্ট এর বাবা বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি নিয়মিত দায়ের করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফারুক হোসেন মহোদয় নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এ্যান্ড অপস্) এর নেতৃত্বে জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান শাকিল, সহকারী পুলিশ সুপার, উল্লাপাড়া সার্কেল, সিরাজগঞ্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ একরামুল হোসাইন, পিপিএম ও উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ রাকিবুল হাসান এর তত্বাবধানে ডিবির এসআই(নিঃ)/মোঃ নাজমুল হক, বিপিএম, এসআই(নিঃ)/মোঃ শারফুল ইসলাম এবং উল্লাপাড়া মডেল থানার এসআই(নিঃ)/সুমন মাহমুদ’সহ একটি চৌকস টিম গঠন করেন। চৌকস টিমটি তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সহিত জড়িত আসামীদের সনাক্তপূর্বক আসামী ১। মোঃ হাফিজুল ইসলাম(৪০), ২। মোঃ জাকারিয়া হোসেন(৩০), ৩। মোঃ মঞ্জেল সরদার(৪০) এবং ৪। মোঃ ওমর ফারুক(২৫)’গণদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ডিসিষ্ট রুহুল আমিন জেলহককে হত্যা করে তার ব্যাটারী চালিত অটো মিশুক গাড়ীটি ছিনতাই করে নিয়ে গিয়ে ০৪ টি ব্যাটারী, ০৩টি চাকা এবং ০২টি লোহার তৈরী সকাপ খুলে তারা আলাদা আলাদা বিক্রয় করে এবং অটো মিশুক গাড়ীর বডি উল্লাপাড়া থানাধীন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বড়পাঙ্গাসী নদীপাড়া জনৈক মোঃ আলহাজ এর পুকুরের পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ০৪ টি ব্যাটারী, ০৩টি চাকা, ০২টি লোহার তৈরী সকাপ এবং পুকুর হতে অটো মিশুক গাড়ীর বডি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও আসামীদের ব্যবহৃত ০৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীগণ নিজেদের সম্পৃক্ততাসহ ঘটনার বিষয়ে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় এবং গ্রেফতারকৃত ০৪জন আসামীর মধ্যে ০৩জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।