
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
২০২৪ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন মো. আলমগীর হোসেন। যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তার উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণ, প্রধান ফটকের গেট স্থাপন, শ্রেণিকক্ষ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মানুবর্তিতা, নিয়মিত পাঠদান এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের পাসের হার ৬০.৮০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও ভালো করতে নিয়মিত পাঠদান, তদারকি এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির বর্তমান অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশে উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বিদ্যালয়ের এ অগ্রগতিতে আশাবাদী।
এলাকাবাসী জানান, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়কে সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বৃহত্তর এলাকার শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে। বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শিক্ষার প্রসারে অবদান এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারাকে বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি ও সরকারি করণের উদ্যোগ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।