
আশাশুনি প্রতিনিধি :
আকাশ হোসেন
আশাশুনিতে মামলার বাদীকে খুন জখমসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির ষড়যন্ত্রের প্রতিকারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন শোভনালী ইউনিয়নের বাটরা গ্রামের মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে হাফেজ আরিফুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এবং লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একটি স্থানীয় মসজিদের ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু জামায়াতের কর্মী এবং হাফেজ হওয়ার কারনে বিগত সরকারের আমলে ৭ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বিল্লাল হোসেন ও তার দোসর শালখালী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী শাহাজানের চক্রান্তে দিশেহারা হয়ে পড়ি। তারা প্রায়ই চাঁদা দাবি করত, না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতো। টাকা না দেওয়ার কারনে বিল্লাল ও শাহাজানের যোগসাজশে ডিবি পুলিশ আমাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। ওই চাঁদাবাজরা আমার বিরুদ্ধে একের পর এক ১৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এসব মামলার পলাতক জীবন-যাপন করা অবস্থায় গ্রাম পুলিশ বিল্লাল লোকজন নিয়ে বাটরা মৌজায় আমার পৈত্রিক ৫ বিঘা জমি দখল করে নেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁরা আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা করে গুরুতর জখম করে। কিন্তু সে সময় থানাপুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা রেকর্ড করতে রাজি হয়নি।
এছাড়া ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা শহরে পলাতক থাকাবস্থায় বিল্লাল এবং শাহাজান ডিবি পুলিশ নিয়ে আমার ভাড়ার বাসা থেকে আমাকে আটক করিয়ে আলমারিতে থাকা ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নেয়। টাকার কথা কাউকে জানালে দুই ভাইকে গুলি করে হত্যা করে ক্রস ফায়ার বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় আমার পরিবারের সদস্যদের কাছে। ভয়ে সে সময় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনি।
কোন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত না থাকলেও জামায়াতের কর্মী হওয়ায় কারণে আমি সহ আমার ৭টি ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বিল্লাল। তার বিরুদ্ধে ওয়ার্ডের নিরীহ মানুষের কাছ থেকে সরকারি কার্ড দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে।নাশকতার মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁরা এলাকার অসহায় মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেছে।
সরকারের পতনের পর আমি ন্যায় বিচারের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করলে বিল্লাল ও তার সহযোগি শাহাজান গং বেপরোয়া হয়ে উঠে আমার বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মানববন্ধন, মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের চক্রান্ত শুরু করেছে। একজন মজলুম মানুষ হিসেবে বিল্লাল গংয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের চক্রান্তের হাত রক্ষা পেতে আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।###
ক্যাপশন : আশাশুনিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন হাফেজ আরিফুল ইসলাম।