
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের যানজট নিরসন, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সরেজমিনে মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন। সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকানের মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সামগ্রী রাখা ব্যবসায়ীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে ও ফুটপাতের ওপর দোকানের মালামাল এবং আসবাবপত্র রেখে চলাচলের পথ সংকুচিত করে রাখার চিত্র দেখতে পান ইউএনও। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে দ্রুত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এর আগে একই দিন বিরামপুর পৌর শহরের নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আট দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুনের কাছে প্রদান করে বিরামপুর পেশাজীবী ঐক্য ফ্রন্ট।
সংগঠনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার স্মারকলিপিটি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর পেশাজীবী ঐক্য ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, সাবেক ভিপি গোলাম মোর্শেদ সৈকতসহ অনেকে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিরামপুর পৌর শহরের উভয় পাশের সড়ক এবং ঢাকা মোড়ে অটোরিকশা, মিশুক, টেম্পু, ভ্যান ও বাসের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ করে যানজট নিরসন, নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহনের স্ট্যান্ড নির্ধারণ, অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পৌর কার্যালয়ে বসে পৌর প্রশাসকের নাগরিকদের অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন, অচিরেই ঢাকা মোড় ও হাসপাতাল মোড় সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে ইউএনওর সরেজমিন পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিএনজি, অটোবাইক ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন বিরামপুর স্ট্যান্ড কমিটির সদস্যরা।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানবাহনের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিরামপুর পৌর শহরে স্বাভাবিক চলাচল ও নাগরিক স্বস্তি ফিরে আসবে।