1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
কর্নেল গুলজারা সিং বিরলতম ঔজ্জ্বল্যের অধ্যায়; নেতাজি :- বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি

কর্নেল গুলজারা সিং বিরলতম ঔজ্জ্বল্যের অধ্যায়; নেতাজি :-

বেবি চক্রবর্ত্তী, ভারত প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯৪ বার পঠিত

বেবি চক্রবর্ত্তী :- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেননি, বরং অসংখ্য মানুষকে আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (INA) ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা। এই বাহিনীর বহু সাহসী অফিসার ও সৈনিকের মধ্যে গুলজারা সিং ছিলেন উল্লেখযোগ্য একজন। যদিও গুলজারা সিংয়ের নাম সাধারণ মানুষের কাছে নেতাজির মতো সুপরিচিত নয়, তথাপি তাঁর সঙ্গে নেতাজির সম্পর্ক ছিল গভীর আস্থা, পারস্পরিক সম্মান এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যে নিবেদিত এক যৌথ সংগ্রামের সম্পর্ক।

নেতাজি ও গুলজারা সিংয়ের সম্পর্ক, তাঁদের রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের যৌথ ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।

গুলজারা সিং কে ছিলেন?

গুলজারা সিং ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত সৈনিক, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। জাপানিদের হাতে বহু ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধবন্দি হওয়ার পর যে স্বাধীনতা আন্দোলনভিত্তিক সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে, গুলজারা সিং তার সঙ্গে যুক্ত হন।

তিনি পরে আজাদ হিন্দ ফৌজের একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর সামরিক দক্ষতা, সংগঠকসুলভ ক্ষমতা এবং নেতাজির আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে বাহিনীর মধ্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।

নেতাজির আগমন এবং নতুন উদ্দীপনা:-

১৯৪৩ সালে নেতাজি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছানোর পর আজাদ হিন্দ ফৌজ নতুন প্রাণশক্তি লাভ করে। এর আগে বাহিনীর প্রতিষ্ঠায় মোহন সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।

নেতাজি এসে বাহিনীকে নতুনভাবে সংগঠিত করেন। তাঁর বিখ্যাত আহ্বান—“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”—হাজার হাজার ভারতীয়কে আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। গুলজারা সিংও এই নতুন নেতৃত্বে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন এবং নেতাজির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

সম্পর্কের ভিত্তি: আদর্শ ও বিশ্বাস:-

নেতাজি ও গুলজারা সিংয়ের সম্পর্ক মূলত ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়ে আদর্শগত ঐক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। দুজনেই বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসনকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক আবেদন বা সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে পরাজিত করা সম্ভব নয়; প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের পথও গ্রহণ করতে হবে।

নেতাজি তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে এমন মানুষদের মূল্য দিতেন যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। গুলজারা সিং সেই ধরনেরই একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ফলে নেতাজি তাঁর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করতে দ্বিধা করেননি।

এই আস্থা থেকেই তাঁদের সম্পর্কের ভিত আরও শক্তিশালী হয়।

আজাদ হিন্দ ফৌজে গুলজারা সিংয়ের ভূমিকা:-

আজাদ হিন্দ ফৌজের বিভিন্ন ইউনিটে গুলজারা সিং নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, সৈন্যদের মনোবল ধরে রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

নেতাজি জানতেন যে একটি বিপ্লবী সেনাবাহিনীর সাফল্য কেবল অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না; নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং সংগঠনের শক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গুলজারা সিং এই তিনটি ক্ষেত্রেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। ফলে নেতাজি তাঁকে শুধু একজন অফিসার হিসেবে নয়, বরং স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নির্ভরযোগ্য সহযোদ্ধা হিসেবে দেখতেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে পারস্পরিক নির্ভরতা:-

১৯৪৪ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও জাপানি বাহিনী যৌথভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষত ইম্ফল অভিযান এবং কোহিমা যুদ্ধ ছিল এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু।

এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের মধ্যে গুলজারা সিং ছিলেন অন্যতম। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠা ও সাহসিকতা নেতাজির নজরে আসে।

নেতাজি সবসময় সামনের সারির সৈনিকদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ রাখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে একজন নেতার কর্তব্য হলো নিজের সহযোদ্ধাদের কষ্ট ও ত্যাগকে সম্মান করা। গুলজারা সিংয়ের মতো অফিসারদের প্রতি তাঁর বিশেষ শ্রদ্ধা ছিল কারণ তারা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক:-

নেতাজির নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর মানবিক আচরণ। তিনি তাঁর অধীনস্থদের সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করতেন যাতে তারা নিজেদের শুধু সৈনিক নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলনের অংশ বলে অনুভব করেন।

গুলজারা সিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও এই মানবিকতার দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও ঐতিহাসিক বিবরণে দেখা যায় যে নেতাজি তাঁর অফিসারদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে আগ্রহী থাকতেন। এই কারণে গুলজারা সিংসহ অনেক অফিসার নেতাজির প্রতি ব্যক্তিগতভাবে গভীর আনুগত্য অনুভব করতেন। তাঁদের কাছে নেতাজি ছিলেন শুধু কমান্ডার নন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ক নেতা।

সামরিক সংগঠনে আস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নেতাজি যাঁদের ওপর ভরসা করতেন, তাঁদের হাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিতেন।

গুলজারা সিং সেই আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামরিক কাজে দক্ষতার পরিচয় দেন। এর ফলে নেতাজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

এই সম্পর্কের মূল উপাদান ছিল—

* পারস্পরিক সম্মান
* স্বাধীনতার লক্ষ্যে একনিষ্ঠতা
* সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি বিশ্বাস
* ব্যক্তিগত সততা
* নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (INA) আজাদ ব্রিগেডের গুলজারা সিং জি

আজাদ ব্রিগেড বা ৩য় গেরিলা রেজিমেন্ট ছিল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির একটি ইউনিট। এটি প্রথমে ‘প্রথম আইএনএ’ (First INA)-র অংশ ছিল এবং পরবর্তীতে সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আইএনএ-র পুনর্গঠনের পর ‘প্রথম ডিভিশন’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইএনএ পুনর্গঠিত হওয়ার পর, ৩য় গেরিলা রেজিমেন্টটি কর্নেল গুলজারা সিং-এর কমান্ড বা নেতৃত্বের অধীনে আসে এবং এটি তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল।

এটি ছিল সেই ইউনিটগুলোর মধ্যে একটি যারা আইএনএ-র বিপর্যয়কর ‘ইম্ফল অভিযান’-এ অংশ নিয়েছিল। তারা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগেই উত্তর বার্মায় পৌঁছায় এবং কাবাউ উপত্যকা হয়ে ভারত-বার্মা সীমান্ত থেকে সরে আসা জাপানি বাহিনীকে সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৪৪ সালে এটি শাহ নওয়াজ খানের কমান্ডের অধীনে আসে।

আজাদ গেরিলা বাহিনীর এক স্বল্প-আলোচিত কাহিনী—যারা লেফটেন্যান্ট-কর্নেল গুলজারা সিং-এর নেতৃত্বে ছিলেন এবং এপ্রিলের শেষ দিনগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে (ফ্রন্টে) পাঠানো হয়েছিল।

ইম্ফল অভিযানের পুরো সময়জুড়ে লেফটেন্যান্ট- কর্নেল গুলজারা সিং এবং তাঁর বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন এবং অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক অফিসার ও জওয়ানকে ‘আজাদ হিন্দ মেডেল’ প্রদান করা হয়। ক্যাপ্টেন রণপত সিং, যিনি একটি প্লাটুনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, শত্রুর ওপর আক্রমণ চালিয়ে একটি পাহাড় দখল করার ক্ষেত্রে অসামান্য সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য ‘বীর-এ-হিন্দ’ সম্মানে ভূষিত হন।

আজাদ রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন শাঙ্গারা সিং-কেও ‘বীর-এ-হিন্দ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ইম্ফল সেক্টরের বোগলি (Bogli) এলাকায়, আমাদের নয়জন সদস্য শত্রুপক্ষের ১০০ জন সৈন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, যারা বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ চালিয়েছিল। তাঁরা পুরো একদিন শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে রাখেন; এরপর আইএনএ-র অতিরিক্ত সৈন্যদল (reinforcements) এসে পৌঁছালে শত্রুপক্ষের সৈন্যরা পিছু হটে। এই নয়জনের মধ্যে পাঁচজন আহত এবং দুজন নিহত হন। একজন সদস্য রেজিমেন্টের সম্মান সমুন্নত রাখেন। নায়েক দেশ রাজ-কে ‘শের-এ-হিন্দ’ মেডেলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল গুলজারা সিং ও তাঁর বাহিনী বার্মা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মাটিতে পা রাখেন। মোরেহ ও পালেল পাহাড় দখলের পর, ১ নম্বর ডিভিশনের ডিভিশনাল কমান্ডার কর্নেল জামান কিয়ানির অধীনে চামোল-এ আই.এন.এ.-র সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়।

পরাজয়ের সময়েও সম্পর্কের দৃঢ়তা :-

ইম্ফল ও কোহিমা অভিযানের ব্যর্থতার পর আজাদ হিন্দ ফৌজকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। খাদ্যসংকট, রোগব্যাধি এবং সামরিক চাপ ক্রমশ বেড়ে যায়।

এই সময় অনেক সংগঠন ভেঙে পড়লেও নেতাজির নেতৃত্বে INA সদস্যরা মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেন। গুলজারা সিংও সেই কঠিন সময়ে বাহিনীর পাশে ছিলেন।

পরাজয়ের মুহূর্তে একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়। নেতাজি তাঁর সৈনিকদের ত্যাগকে কখনও অবমূল্যায়ন করেননি। অন্যদিকে গুলজারা সিংয়ের মতো অফিসাররাও শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতি আস্থা বজায় রেখেছিলেন।

এ থেকেই বোঝা যায় যে তাঁদের সম্পর্ক সাময়িক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল না; বরং তা আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল।

নেতাজির নেতৃত্ব সম্পর্কে গুলজারা সিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি:-

যাঁরা নেতাজির সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন, তাঁদের অনেকেই তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।

গুলজারা সিংয়ের মতো অফিসারদের কাছে নেতাজি ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখাতে পারতেন। তিনি সৈনিকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতেন এবং তাঁদের মনে করিয়ে দিতেন যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ত্যাগ স্বীকার অপরিহার্য। এই নেতৃত্বের গুণই গুলজারা সিংকে তাঁর প্রতি আরও অনুগত করে তোলে।

স্বাধীনতার পর তাঁদের উত্তরাধিকার:-

যদিও আজাদ হিন্দ ফৌজ সামরিকভাবে সফল হতে পারেনি, তবু এর প্রভাব ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ওপর ছিল অত্যন্ত গভীর।

আই এন এ (INA) -র বিচার এবং সৈনিকদের আত্মত্যাগ ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল জাতীয়তাবাদী আবেগ সৃষ্টি করে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন যে এর ফলে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

গুলজারা সিংয়ের মতো অফিসারদের অবদানও এই বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা উচিত। তাঁরা নেতাজির নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য জীবন বিপন্ন করেছিলেন।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও গুলজারা সিংয়ের সম্পর্ক ছিল মূলত একজন দূরদর্শী জাতীয় নেতার সঙ্গে একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিকের সম্পর্ক। কিন্তু এর মধ্যেই ছিল গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং স্বাধীনতার আদর্শে অবিচল বিশ্বাস।

নেতাজি গুলজারা সিংয়ের মধ্যে একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে খুঁজে পেয়েছিলেন। অন্যদিকে গুলজারা সিং নেতাজির মধ্যে দেখেছিলেন এমন এক নেতা, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত।

তাঁদের সম্পর্ক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ইতিহাসের বড় আন্দোলনগুলো শুধু মহান নেতাদের দ্বারা নয়, বরং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো অসংখ্য বিশ্বস্ত সহযোদ্ধার আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার মাধ্যমেও গড়ে ওঠে। আজাদ হিন্দ ফৌজের ইতিহাসে গুলজারা সিং সেই সব দেশমাতৃকার চরণে যোদ্ধাদের অন্যতম প্রতিনিধি, আর নেতাজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park