1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
আজ ফুটপাতে আছে বই, জ্ঞানের আলোয় মোরা " তবু কেন শিক্ষা কেনে মানুষ স্বপ্নের দাম দিয়ে ? (জুতো ক্ষয়ে যায়, বইয়ের কথা থাকে: শিক্ষার আলোয় ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান) - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

আজ ফুটপাতে আছে বই, জ্ঞানের আলোয় মোরা ” তবু কেন শিক্ষা কেনে মানুষ স্বপ্নের দাম দিয়ে ? (জুতো ক্ষয়ে যায়, বইয়ের কথা থাকে: শিক্ষার আলোয় ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান)

বেবি চক্রবর্ত্তী, ভারত প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৫ বার পঠিত

“আজ ফুটপাতে আছে বই, জ্ঞানের আলোয় মোরা ” তবু কেন শিক্ষা কেনে মানুষ স্বপ্নের দাম দিয়ে ?

(জুতো ক্ষয়ে যায়, বইয়ের কথা থাকে: শিক্ষার আলোয় ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান)

বেবি চক্রবর্ত্তী:- কলেজস্ট্রিট ফুটপাতের পাশে সাজানো থাকে নানা রঙের বই। কোথাও পুরোনো বইয়ের স্তূপ, কোথাও নতুন বইয়ের ঝকঝকে মলাট। সেই বইগুলোর পাশ দিয়েই প্রতিদিন মানুষ ছুটে চলে জীবিকার সন্ধানে, স্বপ্নের সন্ধানে। অন্যদিকে শপিং মলের বিশাল কাচের দরজার ভেতরে সাজানো থাকে নামী-দামি জুতো, পোশাক ও নানা বিলাসপণ্য। মানুষের জীবন যেন এই দুই বিপরীত জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—একদিকে ক্ষণস্থায়ী ভোগের আকর্ষণ, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী জ্ঞানের আহ্বান।

“ফুটপাতে আছে বই, জ্ঞানের আলোয় মোরা,
শপিং মলে জুতোর বাহার, সাজে রঙিন খেলা।
পায়ের তলে জুতো জোটে—বিনাসেবায় জীবন মরে,
শিক্ষা কেনে মানুষ স্বপ্নের দাম দিয়ে।”

এই পঙ্‌ক্তিগুলোর মধ্যে শুধু বই ও জুতোর তুলনা নেই; রয়েছে মানুষের জীবনদর্শন নিয়ে একটি গভীর প্রশ্ন। আমরা কোন জিনিসের পেছনে কতটা ব্যয় করছি? আমাদের অর্থ, সময় ও শ্রম কি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সাময়িক আরামের জন্য, নাকি ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যও? জুতো আমাদের পথ চলতে সাহায্য করে, কিন্তু শিক্ষা আমাদের বলে দেয় কোন পথে চলতে হবে। জুতো পায়ের সুরক্ষা দেয়, শিক্ষা রক্ষা করে মানুষের চিন্তা, বিবেক ও ভবিষ্যৎকে।

জুতো প্রয়োজন, কিন্তু শিক্ষা অপরিহার্য:-

জুতো মানুষের জীবনের একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ। রাস্তায় হাঁটতে গেলে পা রক্ষা করতে জুতো দরকার। কর্মক্ষেত্রে, বিদ্যালয়ে, খেলাধুলায় কিংবা দৈনন্দিন জীবনে জুতোর ব্যবহার অপরিহার্য। একটি ভালো জুতো আমাদের আরাম দিতে পারে, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে পারে এবং অনেক সময় সামাজিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু জুতোর একটি সীমা আছে। যত দামি জুতুই হোক, একসময় তার তলা ক্ষয়ে যায়, রং বিবর্ণ হয়, আকর্ষণ কমে যায়। নতুন ফ্যাশন আসে, পুরোনো জুতো আলমারির এক কোণে পড়ে থাকে। অর্থাৎ জুতোর উপযোগিতা ও সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি বই হয়তো বহু বছর পুরোনো হয়ে যেতে পারে, তার পাতা হলদে হয়ে যেতে পারে, কিন্তু তার ভেতরে থাকা জ্ঞান পুরোনো হয় না। বরং সেই জ্ঞান নতুন প্রজন্মের হাতে নতুন অর্থ পায়। একজন মানুষ যে শিক্ষা শৈশবে অর্জন করে, তা তার চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত, মূল্যবোধ ও কর্মজীবনে বহু বছর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই জুতো যেমন পায়ের পথকে নিরাপদ করে, শিক্ষা তেমন জীবনের পথকে আলোকিত করে।

ফুটপাতের বই: সাধারণ মানুষের জ্ঞানের দরজা:-

ফুটপাতের বইয়ের দোকান আমাদের শহুরে জীবনের এক অনন্য দৃশ্য। সেখানে হয়তো বিলাসবহুল সাজসজ্জা নেই, নেই ঝলমলে আলো। পুরোনো কাঠের তাক, মাটিতে সাজানো বই কিংবা প্লাস্টিকের চাদরের ওপর রাখা বই—এসবই তার পরিচয়। কিন্তু সেই সাধারণ পরিবেশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ এক সম্পদ।

ফুটপাতের বই অনেক মানুষের কাছে জ্ঞানের সহজলভ্য মাধ্যম। যাঁদের পক্ষে বড় বইয়ের দোকান থেকে বেশি দামে বই কেনা সম্ভব নয়, তাঁরা অনেক সময় পুরোনো বইয়ের দোকানে নিজেদের প্রয়োজনীয় বই খুঁজে পান। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রস্তুতির বই পেতে পারে, একজন চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বই কিনতে পারে, আবার একজন সাহিত্যপ্রেমী অল্প দামে উপন্যাস, কবিতা বা দর্শনের বই সংগ্রহ করতে পারে।

একটি পুরোনো বই কখনও কখনও একাধিক মানুষের জীবনে আলো ছড়ায়। একজন পড়ে বইটি অন্যজনকে দেন; আবার সেই বই চলে যায় আরেকজনের হাতে। এভাবেই একটি বইয়ের জ্ঞান বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

ফুটপাত তাই কেবল কেনাবেচার স্থান নয়; অনেক সময় এটি জ্ঞান গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কম হলেও মানুষের জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা যেন থেমে না যায়—ফুটপাতের বই সেই সুযোগ তৈরি করে।

শপিং মলের জুতোর বাহার ও ভোগের সংস্কৃতি:-

অন্যদিকে আধুনিক শহরের শপিং মল আমাদের ভোগবাদী জীবনের একটি প্রতীক। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতো, পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সাজানো থাকে আকর্ষণীয়ভাবে। বিজ্ঞাপন আমাদের বোঝায়—নতুন জিনিস মানেই নতুন আনন্দ, নতুন পরিচয়, নতুন মর্যাদা।

জুতো কেনার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন প্রয়োজনের চেয়ে প্রদর্শন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি ভালো জুতো দরকার হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও দামি জুতো কেনা যদি শুধু অন্যকে দেখানোর জন্য হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—আমরা কি সত্যিই নিজের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ ব্যয় করছি?

সমাজে এমন এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও ব্র্যান্ডের মূল্য অনেক সময় জ্ঞান ও দক্ষতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পায়। একজন মানুষ কী পড়েছেন, কী জানেন, কী করতে পারেন—তার চেয়ে কখনও কখনও তিনি কী পরেছেন, কোন ব্র্যান্ড ব্যবহার করছেন, সেটিই বেশি আলোচিত হয়।

এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। কারণ ভোগের জিনিস মানুষের জীবনকে কিছুটা আরাম দিতে পারে, কিন্তু জ্ঞান মানুষের ক্ষমতাকে বাড়ায়।

শিক্ষার জন্য খরচ আসলে বিনিয়োগ:-

শিক্ষাকে ব্যয় হিসেবে দেখলে তার মূল্য বোঝা কঠিন। কিন্তু শিক্ষাকে যদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিষয়টি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

একজন বাবা-মা সন্তানের বই কিনতে টাকা খরচ করেন। প্রথম দৃষ্টিতে সেটি একটি খরচ। কিন্তু সেই বই থেকে সন্তান যে জ্ঞান অর্জন করে, তা ভবিষ্যতে তার দক্ষতা বাড়াতে পারে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং তাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারে। একজন তরুণ কোনো প্রশিক্ষণ কোর্সে অর্থ ব্যয় করেন। সেই শিক্ষা তার পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে পারে। একজন মানুষ ভাষা শেখেন, কম্পিউটার শেখেন, কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেন—এসবই ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় বিনিয়োগ।

অন্যদিকে একটি জুতো কেনার পর সেটি ব্যবহারে ক্ষয় হবে। কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর সেটি বদলাতে হতে পারে। কিন্তু একটি বই থেকে অর্জিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সারাজীবন কাজে লাগতে পারে।

তাই শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা অর্থের প্রকৃত মূল্য তার দামের মধ্যে নয়, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মধ্যে।

“জুতো ক্ষয়ে যায়, বইয়ের কথা থাকে”

এই একটি বাক্যেই শিক্ষার স্থায়িত্বের গভীর সত্য লুকিয়ে আছে। জুতো ক্ষয় হয়, কারণ তার কাজ মূলত শারীরিক। বই মানুষের মনের সঙ্গে কাজ করে। একটি বই পড়ে একজন মানুষ নতুনভাবে পৃথিবীকে দেখতে শেখেন। তার চিন্তার পরিধি বাড়ে। সে প্রশ্ন করতে শেখে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শেখে এবং নিজের ভুল সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

একটি ভালো বইয়ের একটি বাক্যও কখনও কখনও মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন শিক্ষার্থী হয়তো বিজ্ঞানবিষয়ক বই পড়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। কেউ ইতিহাস পড়ে সমাজকে নতুন চোখে দেখতে পারে। কেউ সাহিত্য পড়ে মানবিকতার গভীরতা বুঝতে পারে। কেউ দর্শন পড়ে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।

বইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই—এটি শুধু তথ্য দেয় না; অনেক সময় চিন্তার জন্ম দেয়।

শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়:-

শিক্ষার উদ্দেশ্যকে শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে শিক্ষার প্রকৃত গুরুত্ব ছোট হয়ে যায়। শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন করে, বিবেক তৈরি করে এবং সমাজ সম্পর্কে দায়িত্বশীল করে তোলে।

একজন শিক্ষিত মানুষ জানেন কীভাবে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। তিনি অন্যের অধিকারকেও সম্মান করতে শেখেন। তিনি কুসংস্কার, গুজব ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করাতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন যে সমাজের উন্নতি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে ন্যায়বোধ, সহনশীলতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বও জড়িত।

এই কারণেই শিক্ষা ব্যক্তিগত সম্পদ হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্পদও।

একজন মানুষ শিক্ষিত হলে তার প্রভাব শুধু তার নিজের জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার পরিবার, সন্তান, সহকর্মী এবং বৃহত্তর সমাজও তার জ্ঞানের সুফল পেতে পারে।

শিক্ষার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়ায় :-

জুতোর ব্যবহার একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু শিক্ষার প্রভাব প্রজন্ম পেরিয়ে যেতে পারে। একজন শিক্ষিত মা বা বাবা তার সন্তানের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারেন। তিনি সন্তানকে বই পড়তে উৎসাহ দেন, প্রশ্ন করতে দেন, ভালো-মন্দ বিচার করতে শেখান। এভাবেই শিক্ষার মূল্যবোধ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যায়।

একটি পরিবারে যদি বই পড়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তাহলে সেই পরিবারের শিশুদের মধ্যে জানার আগ্রহ বাড়তে পারে। তারা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, আনন্দের জন্যও পড়তে শেখে। আর পড়ার অভ্যাস একজন মানুষের চিন্তার জগৎকে ক্রমশ বিস্তৃত করে।

তাই শিক্ষায় বিনিয়োগের ফল অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। কিন্তু তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং গভীর।

দরিদ্র মানুষের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব আরও বেশি

সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষা উন্নতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। অর্থের অভাব একজন মানুষকে অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে, কিন্তু শিক্ষা তাকে সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার ক্ষমতা দিতে পারে।

একজন দরিদ্র পরিবারের শিশু যদি মানসম্মত শিক্ষা পায়, তাহলে তার সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। সে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সে নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার অগ্রগতির সুফল পেতে পারে।

এই কারণে শিক্ষাকে বিলাসিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য শিক্ষা মৌলিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বই কেনা মানে স্বপ্ন কেনা:-

“শিক্ষা কেনে মানুষ স্বপ্নের দাম দিয়ে”—এই ভাবনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ যখন একটি বই কেনে, তখন সে কেবল কাগজ ও মুদ্রিত অক্ষর কিনছে না। সে সম্ভাবনা কিনছে। সে নিজের অজানা জগতের দরজা খুলছে।

একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের জমানো টাকা দিয়ে বই কেনে, তখন সেই বই তার কাছে ভবিষ্যতের সিঁড়ি। একজন কর্মজীবী যখন নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বই বা প্রশিক্ষণে অর্থ ব্যয় করেন, তখন তিনি নিজের আগামী দিনের মূল্য বাড়ান। একজন শিশু যখন গল্পের বই হাতে নেয়, তখন সে কেবল গল্প পড়ে না; কল্পনার জগতে প্রবেশ করে, ভাষা শেখে এবং নতুনভাবে ভাবতে শেখে।

এই অর্থে বই কেনা একটি ছোট সিদ্ধান্ত হলেও তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।

আমাদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?

প্রশ্নটি জুতো কিনব কি বই কিনব—এমন সরল নয়। জীবনে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের পায়ে জুতো দরকার, শরীরে পোশাক দরকার, দৈনন্দিন জীবনে নানা সামগ্রী দরকার। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের বুঝতে হবে কোন খরচ প্রয়োজন, কোনটি বিলাসিতা এবং কোনটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।

একটি দামি জুতোর বদলে সাশ্রয়ী জুতো কিনে যদি সেই অর্থের একটি অংশ বই কেনার জন্য রাখা যায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান সিদ্ধান্ত হতে পারে। পরিবারের বাজেটে যেমন খাবার ও পোশাকের জন্য অর্থ রাখা হয়, তেমনই বই, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও জ্ঞানচর্চার জন্যও নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা দরকার।

একটি সমাজের উন্নতির মানদণ্ড শুধু কত বড় শপিং মল আছে, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং কতজন শিশু বই পড়ছে, কতজন তরুণ দক্ষতা অর্জন করছে, কতজন মানুষ জ্ঞানচর্চা করছে—এসবও উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

ভবিষ্যৎ গড়ার ডাক:-

“শিক্ষার আলো জীবনভর পথ দেখিয়ে রাখে”—এই কথাটিই আমাদের মূল বার্তা। জীবনের পথে নানা বাধা আসবে। অর্থনৈতিক সমস্যা, সামাজিক প্রতিকূলতা, ব্যর্থতা কিংবা অনিশ্চয়তা—সবকিছুর মধ্যেও শিক্ষা মানুষকে নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার শক্তি দেয়।

জ্ঞান মানুষকে শুধু উত্তর দেয় না, প্রয়োজনে নতুন প্রশ্ন করতেও শেখায়। আর প্রশ্ন করার ক্ষমতাই অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি।

আজ একটি বই কেনা হয়তো খুব ছোট একটি কাজ। কিন্তু সেই বই থেকে জন্ম নিতে পারে একটি নতুন ধারণা। সেই ধারণা থেকে তৈরি হতে পারে নতুন দক্ষতা। সেই দক্ষতা থেকে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান। আর একজন মানুষের সাফল্য থেকে বদলে যেতে পারে একটি পরিবার, এমনকি একটি সমাজও।

তাই আমাদের ভোগের সঙ্গে জ্ঞানের ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। শপিং মলের ঝলমলে আলো আমাদের আকর্ষণ করতেই পারে, কিন্তু জীবনের দীর্ঘ পথ আলোকিত করার জন্য দরকার অন্য এক আলো—জ্ঞানের আলো।

জুতো ক্ষয়ে যাবে। তার তলা পাতলা হবে, রং মুছে যাবে, একদিন হয়তো সেটি ফেলে দিতে হবে। কিন্তু একটি বইয়ের কথা থেকে যাবে। একটি শিক্ষার সূত্র, একটি চিন্তা, একটি মূল্যবোধ, একটি উপলব্ধি মানুষের মনে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে।

শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার পোশাকে নয়, তার চিন্তায়; তার জুতোর ব্র্যান্ডে নয়, তার জ্ঞানে; তার বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়, তার চরিত্র ও কর্মে।

তাই আজকের সময়ে আমাদের প্রত্যেকের কাছে আহ্বান—প্রয়োজনীয় জিনিস কিনুন, কিন্তু জ্ঞানকে কখনও অপ্রয়োজনীয় মনে করবেন না। সন্তানকে শুধু ভালো পোশাক ও জুতো দেওয়ার চেষ্টা নয়, তার হাতে বইও তুলে দিন। নিজের জন্য শুধু আরাম নয়, শেখার সুযোগও তৈরি করুন। সমাজে শুধু বড় বড় বিপণিবিতান নয়, সমৃদ্ধ পাঠাগার, বইয়ের দোকান ও শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলুন।

কারণ জুতো আমাদের পথের কাঁটা থেকে পা বাঁচায়, কিন্তু শিক্ষা আমাদের জীবনের অন্ধকার থেকে পথ দেখায়।

জুতো ক্ষয়ে যায়, বইয়ের কথা থাকে। শিক্ষা একবার অর্জিত হলে তার আলো সহজে নিভে যায় না। তাই জ্ঞানের জন্য খরচ হোক, শিক্ষার জন্য বিনিয়োগ হোক—কারণ আজকের জ্ঞানই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park